বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

অভিযোগ শিক্ষার্থীর

রাত ১০টা বাজলেই কল দিতেন ঢাবি শিক্ষক

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৯:০৩

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে এবার যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) এর এক শিক্ষার্থী।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাকসুদুর রহমানকে ই-মেইলের মাধ্যমে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অভিযোগ জমা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর জানান, বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তাই ই-মেইলের মাধ্যমে তিনি অভিযোগটি জমা দেন।

অভিযোগের হার্ডকপি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সহপাঠী এসে জমা দিয়ে যান বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগপত্রে ওই শিক্ষার্থী বলেছেন, অধ্যাপক নাদির জুনাইদ আমাদের একটি কোর্স পড়ানোর জন্য গেস্ট ফ্যাকাল্টি হিসেবে বিভাগে ক্লাস নিতেন। ব্যাচের ক্লাস রিপ্রেজেনটেটিভ হওয়ায় আমাকে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা লাগতো। প্রথমত উনি আমাকে নিয়মিত ফোন দিতেন। বাসায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমাকে ফোন দিতেন। কিন্তু সমস্যা হলো তিনি আমার অনেক ব্যাক্তিগত তথ্য জিজ্ঞেস করতেন।

অভিযোগপত্রে ওই শিক্ষার্থী আরও বলেন, সাধারণত উনি রাত ১০টা বা ১২টার দিকে ফোন দিতেন। উনি আমাকে যখন এভাবে ফোন বা ভিডিও কল দিতেন, আমি খুবই বিব্রত হতাম। আমি প্রায়ই ওনার ফোন না ধরার চেষ্টা করতাম, কিন্তু সেটার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পরবর্তী ক্লাসে দেখা যেত। ফোন না ধরায় আমাকে ক্লাসে নানাভাবে হেনস্তা করতে চাইতেন। ক্লাসে এভাবে হেনস্তার শিকার হওয়ার পরও তিনি আবারও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন।

ভুক্তভোগী আরও বলেন, তিনি আমাকে শারীরিক স্পর্শ বা সেরকম কিছু করেননি। কিন্তু বিয়ের কথা বলে আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন কথোপকথন চালিয়ে গেছেন। প্রায়ই অশ্লীল কথাবার্তা বলতেন। নানা রকম যৌন উত্তেজনামূলক কথা আমার সঙ্গে বলতে চাইতেন। সবসময় অন্তরঙ্গ কথা বলার প্রতি উনার বিশেষ আগ্রহ থাকত। আমার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গা নিয়ে তিনি আমাকে প্রশ্ন করতেন। আমার পোশাক নিয়েও অযাচিত মন্তব্য করতেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক নাদির জুনাইদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ওই বিভাগের এক শিক্ষার্থী।

ইত্তেফাক/এবি