বেইলি রোডের আগুন

‘বাবা আমি আটকা পড়েছি, আমাকে বাঁচাও’

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ১৬:৪৬

রাজধানীর বেইলি রোডের আগুনে প্রাণ ৪৬ জন। আগুনে ঝলসে গেছে অনেক পরিবারের স্বপ্ন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বুয়েটের দুই শিক্ষার্থী। এর মধ্যে একজন লামিসা ইসলাম। পড়তেন মেকানিক্যাল বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষে।

জানা গেছে নিহত লামিসা পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি নাসিরুল ইসলামের বড় মেয়ে। তিনি রাত সাড়ে ৮টার দিকে বেইলি রোডের রেস্টুরেন্টে খেতে এসেছিলেন। নিচ থেকে যখন আগুন লাগে তখন সে ভবনে আটকা পড়ে।

তার পরিবারের ভাষ্যমতে, আগুন লাগার পর লামিসা তার বাবাকে ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি বলেছিলেন, ‘বাবা আমি আটকা পড়েছি, এখান থেকে বের হতে পারছি না। আমাকে বাঁচাও।’

হয়তো মৃত্যুর আগে এতটুকুই ছিল বাবার কাছে লামিসার শেষ আবদার। এরপর তাকে ফোনে কল করা হয়েছে অনেকবার। ফোনে কল ঢুকলেও কেউ আর রিসিভ করেনি। তার লাশ ঢামেকে আনার পর সনাক্ত করা হয়।

লামিসা যে এডিশনাল ডিআইজি নাসিরুল ইসলামের বড় মেয়ে এ কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

২০১৮ সালে স্ত্রী হারিয়েছেন নাসিরল ইসলাম। আগুনে পুড়ে দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়েও মারা গেল। স্ত্রীর মৃত্যুর পর দুই মেয়ের দিকে তাকিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেননি তিনি। সন্তানদের নিয়ে থাকতেন রমনার পুলিশ কমপ্লেক্সে।

লামিসাকে হারিয়ে বাবা পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) নাসিরুল ইসলাম হয়ে পড়েছেন বাকরুদ্ধ। তার সহকর্মীরাও শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে বেইলি রোডের সেই ভবনে আগুনের খবর পাওয়া যায়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট।

ইত্তেফাক/এসএটি