বেইলি রোডে আগুন

‘আমার ছেলে আর রইলো না, কাকে নিয়ে বাঁচবো’

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭:৪৮

‘আমার ছেলে কখনও ভিডিওকলে কথা বলতো না। গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ সে ভিডিও কল দেয়, পরিবারের সবার খোঁজখবর নেয়। তাকে জিজ্ঞেস করি তোমার কিছু হয়েছে? সে কিছু হয়নি বলে ফোন রেখে দেয়। পরে শুনি তার অফিসে আগুন লেগেছে।’ মৃত্যুর আগে সন্তানের সঙ্গে শেষ কথপোকথন এভাবেই বলছিলেন গত রাতে রাজধানীর বেইলি রোডের আগুনে প্রাণ হারানো নারায়ণগঞ্জের শান্ত হোসেনের মা লিপি আক্তার। তার এমন অকাল মৃত্যু যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার ও এলাকাবাসী। 

তিন ভাই ও এক বোনের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ঢাকার বেইলি রোডে গ্রিন কজি কটেজ ভবনে চাকরি করতেন পরিবারের বড় ছেলে শান্ত। বাবা সৌদি আরব প্রবাসী হলেও সংসারে তেমন স্বচ্ছলতা না থাকায় চাকরি করতে হতো তাকেও। 

সরেজমিনে শান্তর বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, বাড়িতে মরদেহ ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলেন এলাকাবাসী। স্বজনদের কান্না যেন থামছে না। তাদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। শান্তর মায়ের আহাজারিতে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ছেন সবাই।

মা লিপি আক্তার বলেন, আমার ছেলে অনেক ভালো। সবসময় হাসি-খুশি থাকতো। পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে চাকরিতে যোগ দেয়। তার বাবার পাশাপাশি সে সংসারের খরচ যোগাত। ভাই-বোনের পড়ালেখার খরচ বহন করতো। আমার ছেলে আর রইলো না। আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছে। আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচবো। আমাকে কে স্বপ্ন দেখাবে। তার বাবাও শেষবারের মতো ছেলেকে দেখার সুযোগ পেলো না। 

শান্তর ভাই প্রান্ত হোসেন বলেন, রাতে মোবাইলে দেখি ঢাকার বেইলি রোডে আগুন লেগেছে। তখনই আমার মনে নাড়া দেয়, আমার বড় ভাই তো সেখানে চাকরি করে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ভাইয়ের মোবাইলে কল দিলে ফোন বন্ধ পাই। পরে তার এক সহকর্মীকে ফোন দিলে পুলিশ ধরে বলে মরদেহ হাসপাতালে রয়েছে।

কুতুবপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মাসুদ মিয়া বলেন, অবহেলার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এটা মেনে নেওয়ার মতো না।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি