পগবার নিষেধাজ্ঞায় কষ্টে দিদিয়ের

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৪, ১৯:৩৮

বয়স মাত্র ৩০। যে বয়সে রীতিমতো উড়তে থাকেন একজন ফুটবল তারকা। অথচ সেই বয়সেই এসে পুরো ক্যারিয়ার শেষের পথে ফরাসি বিশ্বকাপজয়ী তারকা পল পগবার। ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পর সব ধরনের ফুটবল থেকে ৪ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে তাকে। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।

লেকিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ফরাসি কোচের মন্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। পগবার শাস্তি নিয়ে দেশম বলেছেন, 'আমি এক মিনিটের জন্যও বিশ্বাস করতে পারছি না যে, পগবা কোনো মাদক গ্রহণ করেছে বা করেছিল। আমি তাকে খুব ভালো করে চিনি। আমি জানতাম সে এমন নয়। গত কয়েক মাস পল খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। সেই যাত্রা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু ইতালীয় অ্যান্টি-ডোপিং ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে তাতে আমি তার ব্যথার প্রতি সংবেদনশীল হতে পারছি না।'

দিদিয়ের আরও বলেছেন, 'পগবার পরিস্থিতি আমাকে দুঃখ দেয়। আমি বিশ্বাস করি, ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের জন্য সে যা করেছে সেটি অবিসংবাদিত। এই মুহূর্তে তার বিরুদ্ধে যা চলছে, সেজন্য তাকেই মোকাবিলা করতে হবে। নিজেকেই নেতৃত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।'

এ দিকে পগবা দাবি করেছেন, নিষিদ্ধ ড্রাগ গ্রহণের বিষয়টি তার জানা ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক চিকিৎসক বন্ধু তাকে একটি ওষুধ নিতে বলেছিলেন, তবে সেটিতে টেস্টোস্টেরন ছিল, এমনটি জানতেন না। নিষিদ্ধ ওষুধ সেবনের অভিযোগ আসার পর গত বছরের ২০ আগস্ট টেস্টোস্টেরন টেস্ট করা হয় পল পগবার। সেখানে দেখা যায়, টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেড়েছে পগবার। অর্থাৎ ডোপ টেস্টে পজিটিভ এসেছেন তিনি। 

সেই অপরাধের কারণেই এবার সাজা পেলেন তিনি। টেস্টোস্টেরন হলো এক প্রকার হরমোন, যা খেলোয়াড়দের মাঠে আরও বেশি সময় সক্রিয় থাকতে সহায়তা করে। নিষিদ্ধ ওষুধ বা মাদক নিয়ে অনেকে এই হরমোনের পরিমাণ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করে থাকেন। সেটাই করেছেন পগবা। ডোপিং টেস্টে পজিটিভ আসার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন পগবা। এবার নিষেধাজ্ঞা পেলেন ৪ বছরের জন্য।

অন্যদিকে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করলেও তদন্তে পগবা ও তার প্রতিনিধিরা প্রমাণ করতে পারেননি যে, টেস্টোস্টেরনের বিষয়টি জানা ছিল না। রয়টার্স জানিয়েছে, পগবার চার বছরের নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইতালির অ্যান্টিডোপিং প্রসিকিউটর কার্যালয় দেশটির অ্যান্টিডোপিং ট্রাইব্যুনালে অনুরোধ জানিয়েছিল। আদালত সেটি গ্রহণ করেছেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) আপিল করার সুযোগ আছে পগবার।

শাস্তির ঘটনা নিয়ে পগবা বলেছিলেন, 'আমি এই ঘটনায় হতবাক এবং হৃদয়বিদারিত। এতদিনে আমি যে পেশাদার ক্যারিয়ারে তৈরি করেছি তা আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমি যখন আইনি সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হব, তখন পুরো ঘটনাটি পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমি কখনোই জ্ঞাতসারে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অ্যান্টি- ডোপিংয়ের নিয়ম লঙ্ঘন করে এমন কিছু গ্রহণ করিনি।'

ইত্তেফাক/জেডএইচ