সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নগরের ঘনবসতির ভেতর টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির নতুন ক্যাম্পাসের অবস্থান। মাত্র ৭ একর জায়গায় নির্মিত ভবনটি দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ইনার-সিটি ক্যাম্পাস। অত্যাধুনিক ও বিশ্বমানের স্থাপনার সকল বৈশিষ্ট্যই রয়েছে এতে। সম্প্রতি এই ক্যাম্পাস গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৪, ১৪:১৪

স্যার ফজলে হাসান আবেদের প্রতিষ্ঠা করা ব্র্যাক যে সবসময়ই অন্যদের চেয়ে আলাদা, তা নানাবিধ সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে জানান দিয়েছে আগেই। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিও তেমনি গত দুই দশকে নিজেদের নিয়ে গেছে অনন্য উচ্চতায়। মানসম্মত উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন তা প্রমাণ করে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকা একটি বড় সীমাবদ্ধতা ছিল প্রতিষ্ঠানটির। সাভারে একটি আবাসিক ক্যাম্পাস থাকলেও সেখানে শিক্ষার্থীরা কেবল একটিমাত্র সেমিস্টারের জন্য যাওয়ার সুযোগ পেতেন। বাদবাকি সকল শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালিত হতো মহাখালী এলাকায় একাধিক বহুতল ভবনে।

কয়েকবছর আগে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের ঘোষণা দেয়। সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান 'ওহা' এটি ডিজাইনের দায়িত্ব নেয়। পরিত্যক্ত জলাশয়ের ওপর নির্মিতব্য ক্যাম্পাসটি আদতে কেমন হবে, তা নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিল। ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যাম্পাসের একটি থ্রিডি এনিমেশন প্রকাশ হওয়ার পর ব্র্যাক-সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যেই তুমুল আগ্রহ-উদ্দীপনা কাজ করছিল। মাঝে করোনা মহামারী এসে নির্মাণ কাজের গতি খানিকটা স্তিমিত হয়। এরপর গেলবছরের ডিসেম্বরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নতুনবছরের জানুয়ারি থেকেই ক্যাম্পাস চালুর ঘোষণা দেয় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। এখন এই ক্যাম্পাসের ভেতরের বাস্তব অভিজ্ঞতা যেন আগের সব প্রত্যাশাকে ছাপিয়ে গেছে।

যদি রামপুরা থেকে উত্তর বাড্ডা যাওয়ার প্রধান সড়ক ধরে এগোতে থাকেন, মেরুল বাড্ডায় এসে চোখে পড়বে কংক্রিটের বিশালাকার একটি স্থাপনা। প্রথমদিকে দূর থেকে অনেকেই ভেবেছেন এটি হয়তো কোনো ইন্ডাস্ট্রি বা কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স। ঘনবসতিপূর্ণ একটি এলাকায় মাত্র ৭ একর জমিতে নির্মিত ভবনটি সামগ্রিক আয়তনে অনেক বড়; তবে এর স্থাপত্য নকশার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো ভবনটির অন্তর্মুখীতা— অর্থাৎ একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর বিশাল ব্যপ্তি অনুভব করা যায় ভেতরে গেলে। এর বড় কারণ— নিচের 'ট্রিপল হাইট স্পেস', আলোবাতাসের অবাধ প্রবেশ, বিভিন্ন অংশে ওঠানামার লম্বা এস্কেলেটর, অ্যাম্ফিথিয়েটারের মতো সিঁড়ি এবং ওপরেরদিকের বেশ কয়েকটি 'আরবান উইন্ডো' বা নগর-জানালা। ভবনের কোথাও বাড়তি চাকচিক্য বা বাহুল্য চোখে পড়বে না। ভেতরে-বাইরে ইট ও কংক্রিটের 'র এক্সপ্রেশন' বা প্রকৃত রূপটিই রাখা হয়েছে। অন্যান্য উপকরণেও কৌলিন্যপ্রত্যাশী ছাপ নেই। থরে থরে সাজানো হয়েছে বাগান। সবমিলিয়ে স্থাপনাটির ভেতরকার ধরনও এমন যে, এটি শিক্ষার্থীদের খুব সহজে আপন করে নিয়ে তাদের মনোজগতকে আন্দোলিত করবে, দেবে সবুজের ছোঁয়া; কিন্তু বিন্দুমাত্র অহংবোধ তৈরি করবে না!

বাঁ দিকের ছবিতে ভবনের বাইরের দিকের একাংশ। ডানের ছবিতে লাইব্রেরির ভেতরের অংশের গ্যালারি সিঁড়ি। ছবি: সংগৃহীত

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির নতুন ক্যাম্পাস চালু পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর বহু ছবি ও ভিডিও পোস্ট হয়েছে। ফলে শিক্ষাঙ্গন নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের মাঝেও আগ্রহ কাজ করছিল এই ক্যাম্পাস নিয়ে। একাধিক গণমাধ্যমের সাংবাদিক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। তাদের কথা মাথায় রেখেই গত বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির নতুন ক্যাম্পাসের ছাদের সবুজ লনে আয়োজন করা হয় 'সবুজের আবাহনে আগামীর আহ্বানে' শীর্ষক মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ মিডিয়া অনুষ্ঠান। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন তামারা হাসান আবেদ, ক্যাম্পাস ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারপারসন সালাহদীন ইমাম, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সাদাফ সায্, ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহফুজুল আজিজ, রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডউল্যান্ড, স্কুল অব আর্কিটেকচার অ্যান্ড ডিজাইনের ডিন প্রফেসর ড. ফুয়াদ হাসান মল্লিক, প্রফেসর ড. জয়নাব ফারুকী আলী, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মাহবুব রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারপারসন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন।

BracU Authority

সাদা কাগজের ব্যাগে একটি নোটপ্যাড, কাগজের তৈরি একটি কলম—যা ইদানিং পরিবেশবান্ধব হিসেবে জনপ্রিয় হচ্ছে, এবং কাঁচের জারের সুন্দর একটি টেরারিয়াম; গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির নতুন ক্যাম্পাস উন্মোচনে আয়োজিত 'মিট অ্যান্ড গ্রিট' অনুষ্ঠানে সবাইকে দেওয়া হলো এমন ব্যতিক্রমী উপহার। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার বার্তা দিলো সুনিপুণভাবে, পাশাপাশি অনুষ্ঠানে তুলে ধরলো পরিবেশবান্ধব ও টেকসই স্থাপত্যে নির্মিত নিজেদের নতুন ক্যাম্পাসের আদ্যোপান্ত।

তেরো তলা একটি ভবনের ওপর খোলা আকাশের নিচে সবুজ ঘাসে এই অনুষ্ঠান শুরু হয় পুঁথিপাঠ দিয়ে। শিল্পী এসে সুরেলা গলায় বললেন, 'সূর্যের আলোয় আলোকিত ব্র্যাকেরই ভবন / বিদ্যুতের ব্যবহার তাই কম হয় এখন। হাইব্রিড ভেন্টিলেশন সারা বিল্ডিং সারা বিল্ডিং জুড়ে, অ্যারোডাইনামিক ডিজাইন বাতাস আনে ঘরে। দিনভর ক্লাস করে আসবে না ক্লান্তি, মুক্তবাতাস প্রাণে জুড়ায় শান্তি। ছাদের ওপর সারিসারি সোলার প্যানেল, দেড় মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে —কেমন আজব খেল।' বিচিত্র এই পুঁথিপাঠের পর মঞ্চে বড় পর্দায় দেখানো হয় স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান 'ওহা'র অন্যতম স্থপতি চুন হিওক সিমের একটি ভিডিওবার্তা। এরপর মঞ্চে আসেন ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করা প্রজেক্ট আর্কিটেক্ট শফিকুল ইসলাম সুমন। তিনি একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে স্থাপনাটির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো ব্যাখ্যা করেন।

সবুজ ঘাসে ঢাকা ছাদ। ছবি: সংগৃহীত

স্থপতি শফিকুল ইসলাম সুমন বলেন, মেরুল বাড্ডার ৭ একর জায়গাটির পঞ্চাশ শতাংশে এই ভবন নির্মিত। বাকি পঞ্চাশ শতাংশে জলাধার ও সবুজায়ন করা হচ্ছে। পুরো ভবনের ছাদও প্রাকৃতিক সবুজ ঘাসে ঢাকা। এই ক্যাম্পাস বাংলাদেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ইনার সিটি ক্যাম্পাস। সুন্দরবনের প্রকৃতির বাস্তুসংস্থান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এখানে প্রকৃতিকে গুরুত্ব দিয়েই স্থাপত্য নির্মিত হয়েছে। এই ভবন ডিজাইন, নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব সুযোগসুবিধা সন্নিবেশিত করার কাজে সিঙ্গাপুর, চীন ও জার্মানির খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞরা কাজ করেছেন। ভবনটির একেকটি ব্লকের অরিয়েন্টেশন বা অবস্থান এমন যে, এটি প্রাকৃতিক বাতাসের সর্বোচ্চ ও নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ নিশ্চিত করে। এখানে হাইব্রিড কুলিং সিস্টেম করা হয়েছে, যা এয়ার কন্ডিশনিংয়ের নির্ভরতা কমিয়ে তাপীয় স্বাচ্ছন্দ্য বা থার্মাল কমফোর্ট দিচ্ছে। আর বিশুদ্ধ বাতাস চলাচলের ফলে অক্সিজেনের মাত্রাও যথাযথ পরিমাণে থাকছে, তাই দীর্ঘসময় ক্লাস করলেও শিক্ষার্থীরা ক্লান্ত হবে না। অন্যদিকে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে প্রায় ৪০ শতাংশ। ভবনের চারপাশের দেয়ালগুলো ধীরে ধীরে সবুজের চাদরে ঢেকে যাবে, সেভাবেই ভার্টিক্যাল গ্রিন ওয়াল ডিজাইন করা হয়েছে।

নগর-জানালা। ছবি: সংগৃহীত

টেকসই ইনার সিটি ক্যাম্পাস, এই কথাটির ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অনেক বড় খোলামেলা জায়গায় তৈরি হতে দেখা যায়। অথচ এটি শহরের ঘনবসতিপূর্ণ একটা এলাকার অভ্যন্তরে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু এই ক্যাম্পাসের ভেতরের অভিজ্ঞতায় শহরের কোলাহল নেই। পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তো আছেই। ভেতরে আসলে মনে হবে এটি অন্য একটি জগত। এর অনুভূতি সম্পূর্ণ আলাদা।

প্রেজেন্টেশনে বলা হয়, বৃষ্টির পানি সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য ভবনের গায়ে অসংখ্য রেইন চেইন ব্যবহার করা হয়েছে, নিচে বায়োটোপ তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া রয়েছে অ্যাডভান্সড সুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। অত্যাধুনিক ডিজাইনের কারণে ভবনটি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, যা ব্যবহার করবে সাড়ে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ছাদে বসানো সোলার প্যানেল থেকেই আসবে এর ২৫ শতাংশ বা ১.৪ মেগাওয়াট। অথচ এই আয়তনের স্থাপনায় সাধারণত ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার হতে দেখা যায়। অন্যদিকে পুরো ভবনটির ভেতরে বেশিরভাগ জায়গা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে শিক্ষার্থীদের অবাধ বিচরণ ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের জন্য। পাঠ্যপুস্তকের পড়াশোনার বাইরেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াকে আরও উৎসাহ যোগানো হয়েছে এতে। এছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসের সব জায়গায় ইউনিভার্সাল এক্সেসিবিলিটি স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা হয়েছে।

ভেতরের বিভিন্ন অংশে ওঠানামার সিঁড়ি ও এস্কেলেটর। ডানের ছবিতে রেইন চেইন ও ভার্টিক্যল ফিন, যা বেয়ে সবুজ লতাপাতা উঠতে শুরু করেছে। ছবি: সংগৃহীত

প্রেজেন্টেশনের পর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারপারসন তামারা হাসান আবেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস নির্মাণের অনুপ্রেরণা এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের শিক্ষাদর্শন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'স্যার আবেদ এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করতে চেয়েছিলেন যেখানে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থেকে শিক্ষা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চা হবে। প্রকৃতি এবং আধুনিক স্থাপত্যের মিশেলে এই নতুন ক্যাম্পাসটি গড়ে তোলা হয়েছে যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জীবন সম্পর্কে অন্যভাবে ভাবতে শেখাবে। উন্নয়নের কারণে নগরায়ন হবেই, কিন্তু প্রকৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের উদ্ভাবনী এবং সৃজনশীল হতেই হবে। নগর পরিকল্পনা এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এই ক্যাম্পাস নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থী, স্থপতি, পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি আদর্শ মানদণ্ড হয়ে থাকবে।'

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এই নতুন ক্যাম্পাসকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর সৈয়দ মাহফুজুল আজিজ। তিনি বলেন, 'আমরা মূলত ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির এই নতুন ক্যাম্পাসটাকে জ্ঞান-বিজ্ঞানের একটা ল্যাবরেটরি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের প্রত্যাশা, আমরা মানসম্মত গবেষণা আর উচ্চমানের শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে বাংলাদেশের একটি ফ্ল্যাগশিপ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলবো। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা যদি দিনের বেলায় আসেন, দেখবেন আমাদের শিক্ষার্থীরা এই ক্যাম্পাসকে কতো আপন করে নিয়েছে। আনাচেকানাচে সবজায়গায় তারা ছড়িয়েছিটিয়ে আছে। এবার আমাদের ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীসংখ্যা অন্য যেকোনোসময়ের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।'

ক্যাম্পাসের ইট ও কংক্রিট। ডানের ছবিতে একটি ক্লাসরুম। ছবি: সংগৃহীত

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রজেক্ট আর্কিটেক্ট শফিকুল ইসলাম আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের পুরো ক্যাম্পাস ঘুরিয়ে দেখান। এসময় ব্র্যাক কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেইন্টেনেন্স ডিপার্টমেন্টের চিফ ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মেজবাহুল মোরশেদ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির চিফ ফাইনান্সিয়াল অফিসার আরিফুল ইসলাম, ডিরেক্টর অব অপারেশন্স মোহাম্মদ সাজেদুল করিম, ডিরেক্টর (আইটি) মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ, অ্যাসোসিয়েট প্রজেক্ট আর্কিটেক্ট হায়াতুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাংবাদিকদের জন্য একটি কুইজ কন্টেস্ট ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এরপর সমাপনী বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এবং ক্যাম্পাস ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারপারসন সালাহদীন ইমাম। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির অফিস অব কমিউনিকেশন্সের ডিরেক্টর খায়রুল বাশার। অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষ সাধন, সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন অঙ্গীকার তুলে ধরার মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই আয়োজন।

ইত্তেফাক/এসটিএম