রাজধানীর বেইলি রোডে একটি ভবনে আগুন লেগে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে বিচারিক কমিটি, হতাহতদের ক্ষতিপূরণ এবং আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ চেয়ে করা পৃথক তিনটি রিট হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এসেছে।
এর মধ্যে অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দের দায়ের করা রিট আবেদন ও অ্যাডভোকেট ইসরাত জাহান সান্ত্বনার রিট আবেদন শুনানির জন্য বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং ব্লাষ্টের দায়ের করা রিট আবেদনটি বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় শুনানির জন্য রয়েছে।
আজ সোমবার (৪ মার্চ) পৃথক বেঞ্চে এ তিনটি রিটের শুনানি হতে পারে।
বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে আগুন লেগে ৪৬ জনের মৃত্যুর ঘটনায় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়ে গতকাল রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইসরাত জাহান সান্ত্বনা। রিটে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রিটে সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আদালতে দাখিল করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ রাজধানীর বেইলি রোডসহ সকল আবাসিক স্থাপনায় রেস্টুরেন্ট বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটে বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডে প্রকৃত দায়ীদের গ্রেপ্তার ও আহত, নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়। এছাড়া বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব ,মন্ত্রী পরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, রাজউকের চেয়ারম্যান, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে। একইদিন আসক, ব্লাস্ট ও বেইলি রোডে আগুনে নিহত তানজিনা নওরিনের পরিবারের এক সদস্য পৃথক আরেকটি রিট দায়ের করেন। ওই রিটে রুল চাওয়ার পাশাপাশি নিহত ব্যক্তিদের পরিবার -আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে বেইলি রোডের ওই ভবনের নিচের অংশে আগুন লাগে। খবর পেয়ে পর্যায়ক্রমে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

