চট্টগ্রামে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন চিনি কারখানায় আগুন লাগার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও তা এখনো পুরোপুরি নেভেনি। এ আগুন পুরোপুরি নেভাতে আরও ঠিক কতটা সময় লাগবে সে বিষয়েও নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। অন্যদিকে আগুন না নেভার কারণে তদন্ত প্রতিবেদন তিন দিনের পরিবর্তে ৭দিনে জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৭ সদস্যের কমিটির সদস্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মামুনুর রহমান।
সরেজমিনে আজ মঙ্গলবার কর্ণফুলীর ইছানগরের ‘এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে' দেখা যায়, আগুনের তাপে গলে যাওয়া চিনির শিরায় ভরে গেছে পুরো কারখানা। এখনো দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুন৷ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আগুনের তীব্রতা গত রাতের চেয়ে অনেকটা কমে গেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) জসীম উদ্দিন জানান, আগুন নেভাতে পানির সঙ্গে ফোম ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আগুন নেভানোর চেষ্টায় রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট।
আগুন লাগার এ ঘটনায় বাজারে কোনো প্রভাব পড়বে না জানিয়ে এস আলম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (কমার্শিয়াল) কামাল হোসেন জানান, এ আগুনে আমাদের এক লাখ টন অপরিশোধিত চিনি পুড়ে গেছে। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে চিনি মওজুদ রয়েছে। তাই বাজারে এর প্রভাব এবং চিনি সংকট দেখা দিবে না।
অন্যদিকে আগুন নেভাতে দেরি হওয়ায় তিনদিনের পরিবর্তে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়া হবে বলে তদন্ত কমিটির সদস্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট (এডিএম) মামুনুর রহমান। তিনি জানান, তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু আগুন এখনো নেভেনি। এজন্য তদন্ত শুরু করা যাচ্ছে না৷ তাই আগামী ৭দিনের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
এর আগে গতকাল সোমবার বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা এলাকার এস আলম সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ চিনিকলে আগুন লাগে। পবিত্র রমজান মাস ঘিরে বিপুল পরিমাণ চিনি আমদানি করেছিল এস আলম সুপার রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। পরিশোধিত ও অপরিশোধিত এক লাখ মেট্রিক টন চিনি রাখা ছিল ওই চিনিকলে।
বিকালে আগুন লাগার পর চার ঘণ্টা ধরে জ্বলে। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি স্টেশনের ১৫ ইউনিট। যখন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের হিমশিম খেতে হয়, তখন আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা যোগ দেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে নিয়োজিত হন র্যাব ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য।
ইতোমধ্যে কী পরিমাণ চিনি পুড়ে গেছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যাবে আগুন নেভানোর পর। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনে লেগেছে বলে ধারণা করছেন চিনিকলটির কর্মকর্তারা।
