জীবনধারণের প্রশ্নে খাদ্যের যেমন কেনো বিকল্প নেই, তেমনি সুস্থভাবে বাঁচতে চিকিৎসার গুরুত্বও অপরিসীম। আর এ কারণেই জীবন বাঁচাতে কিংবা সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে প্রতিনিয়ত মানুষকে ছুটতে হয় চিকিত্সকের কাছে। পর্যাপ্ত জ্ঞানার্জন শেষে সেবাদানের মহান ব্র্রত নিয়েই একজন ব্যক্তি ডাক্তার হন। তবে বর্তমান নির্মম বাস্তবতার নিরিখে মনে হয়, চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য শুধু এই বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকাই যথেষ্ট নয়, অধিকন্তু একজন ডাক্তারকে আগে হতে হবে ‘একজন মানবিক মানুষ’। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে চিকিৎসাসেবার অশেষ চাহিদাকে কিছু মানুষ ব্যবসার পুঁজি বানিয়ে ফায়দা লুটছে। একইভাবে কিছু ডাক্তারও সেবাকে পরিণত করছেন লাভজনক পণ্যে। এতে করে এই মহান পেশা কলঙ্কিত হচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই।
সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চিকিৎসাসেবায় দেশ বেশ সমৃদ্ধি অর্জন করেছে, কিন্তু সত্যি বলতে তা দেশের মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারেনি সেভাবে। ক্যানসার, কিডনি, লিভার প্রতিস্থাপনের মতো জটিল সব রোগের চিকিৎসা এখন দেশেই সম্ভব। তবে হতাশাজনক ব্যাপার হলো, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় মানুষের ভরসা শূন্যের কোটায় বিধায় আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ও সচেতন বেশির ভাগ মানুষ চিকিৎসা নেন দেশের বাইরে। দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকও রয়েছেন। এই তালিকায়।
লক্ষণীয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট ক্লিনিক। ক্ষেত্রবিশেষে লাইসেন্স ছাড়াই দিনের পর দিন কার্যক্রম চলছে এসব প্রতিষ্ঠানে। যেন দেখার কেউ নেই! এমনকি প্রয়োজনীয় সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও কেবল মুনাফার লোভে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে এসব নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান। আর তাদের এই অনিয়ম ও অজ্ঞতার শিকার হয়ে অকালে ঝরে পড়ছে বহু জীবন। হাসপাতালের নামে এসব প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছে কসাইখানা। যতক্ষণ না বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, এসব নজরে আসে না। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের স্বাস্থ্যসেবার মান দিনে দিনে করুণ হওয়ার কারণে চিকিৎসার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের মানুষ। দেশের অর্থনীতিও এর নেতিবাচক প্রভাবের শিকার। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ধীরে ধীরে তা আরো ভয়ংকর রূপ ধারণ করবে। তাই দেশের জনগণের চিকিৎসাসেবার অধিকার নিশ্চিত করতে এই খাতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সরকারের আরো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার সময় এসেছে।
লেখক: শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
