ভূমিকম্পের সেই হোটেলে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৪, ১০:৫৬

২০১৫ সালে নারী ফুটবল দল নেপালে খেলতে গিয়ে ভূমিকম্পের কবলে পড়ে হোটেলে আটকা পড়েছিল ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দল। ভয়াবহ ভূমিকম্পে আটকা পড়া মেয়েদেরকে উদ্ধার করে বিশেষ বিমানে ঢাকায় আনা হয়। ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল স্বাগতিক নেপাল। সেই ফাইনাল ৬ মাস পর হয়েছিল, আবার সেই নেপালে। বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ঘরে ফিরেছিল। সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ এবারও সেই হোটেলে উঠেছে। নেপাল থেকে সহকারী কোচ মাহবুবুর রহমান লিটু জানালেন, এবার নিয়ে তিন বার এই হোটেলে উঠেছে বাংলাদেশ ফুটবল দল।

অনূর্ধ্ব-১৬ নারী দলের কোচ সাইফুল বারী টিটু জানালেন, ফুটবল দল নিয়ে তিনিও তৃতীয় বার ললিতপুরের এই হোটেলে উঠেছেন। ২০১২ সালে জাতীয় দলের কোচ ছিলেন টিটু। নেপালের বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে গিয়ে একটিতে ১-১ ড্র হয়। অন্য ম্যাচটি বাতিল হয় বৃষ্টির কারণে। কাঠমান্ডুতে এখন প্রচণ্ড ঠান্ডা। একাধিক ফুটবলার ঠান্ডায় কষ্ট করেছেন। রাতে বেশি ঠান্ডা। ২০ ডিগ্রিতে নেমে আসে। দুপুরে রোদ থাকে। খেলতে সমস্যা হয় না। লিটু জানিয়েছেন, অনেকটাই ঢাকার মতো রোদের তাপ।   

ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত

ভারতকে হারিয়ে ছোটদের সাফে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে রেখেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ নারী ফুটবল দল। ভারত-নেপাল ম্যাচের অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। গতকাল নেপালের কাঠমান্ডুতে ললিতপুরে আনফা কমপ্লেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারত ১০-০ গোলে নেপালকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠেছে। রিলাক্সে থাকা রবিবার বিকাল সোয়া ৩টায় ফাইনাল।

স্বাগতিক নেপাল এবং ভারতের সংগ্রহ ছিল ৩ পয়েন্ট করে। ড্র হলে ভারত গোল গড়ে ফাইনালে যেত। নেপালকে জিততে হতো। নেপাল ড্র করাত দূরের কথা। ১০ গোলে হারতে হয়েছে নিজেদের মাঠে। এই ম্যাচ পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশের নারী রেফারি জয়া চাকমা। ভুটানের বিপক্ষে ভারতের প্রথম ম্যাচটিও পরিচালনা করেছেন রেফারি জয়া চাকমা। চার দেশের লড়াই, ভারতকে প্রথম দেখায় হারিয়েছে বাংলাদেশ, ৩-১ গোলে। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে মুখোমুখি হওয়ার আগে আজ বিকালে নিয়ম রক্ষার ম্যাচে লড়াই করতে ভুটানের বিপক্ষে নামবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল দল। এই ম্যাচে হারজিতের কিছু নেই।

কোচ সাইফুল বারী টিটুর হারাবার কিছু নেই। তবে তিনি একটা দুশ্চিন্তা করছেন ইনজুরি নিয়ে এবং কার্ড নিয়ে। ভুটান শেষ ম্যাচ খেলবে, তাদেরও হারানোর কিছু নেই। ভুটানের বিপক্ষে সাবধান থাকতে চান বাংলাদেশের কোচ টিটু। অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইনজুরি হয়ে গেলে ফাইনালে ভোগান্তি হবে। কোচ টিটু বললেন, ‘হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না। টুর্নামেন্টে যেসব শঙ্কা থাকে হলুদকার্ড কিংবা লালকার্ড। এমন কিছু যেন না হয়ে যায়, যার কারণে ফাইনালে সমস্যা হয়। তাই বলছি, হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না।’ ‘সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে নেপাল উঁচুতে। উচ্চতা বেশি হওয়ার কারণে প্রথম কয়েক দিন মেয়েরা কষ্ট করেছে। এখন অনেকটাই মানিয়ে নিয়েছে বলে জানান কোচ টিটু। 

ইত্তেফাক/এএম