শরীয়তপুরের চরাঞ্চলে এক্সিলেন্ট আইডিয়াল স্কুলের যুগপূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৪, ১১:০৬

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে এক্সিলেন্ট আইডিয়াল স্কুলের যুগপূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উৎসবে নানা আয়োজনে অংশ নিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। উৎসব উপলক্ষে ‘চরাঞ্চলে ব্যক্তি উদ্যোগে মানসম্পন্ন শিক্ষা বিস্তারের ১ যুগপূর্তি’ শীর্ষক আলোচনাও অনুষ্ঠিত হয়।

রোববার (১০ মার্চ) বিকালে উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের বালুচর এলাকায় এক্সিলেন্ট আইডিয়াল স্কুল মাঠে এ যুগপূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম। 

চরাঞ্চলের শিক্ষা বিস্তার বিষয়ে প্রধান আলোচক ছিলেন সফুরা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ দৌলত আহমেদ চৌধুরী। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি ও প্রাবন্ধিক শ্যামসুুুুুুুুুুুুুুুুুুুন্দর দেবনাথ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লুৎফর রহমান, কোদালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমান, ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনসহ অনেকে। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন এক্সিলেন্ট আইডিয়াল স্কুলের পরিচালক কবি ও সাংবাদিক নকিব মুকশি। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এক্সিলেন্ট আইডিয়াল স্কুলের প্রধান উপদেষ্ঠা আলী যিয়াদ হোসেন। এ সময় শিশুরা সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি উপস্থান করে অতিথিদের মুগ্ধ করেন।

পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, চরাঞ্চলে শিক্ষা বিস্তার করা একটি কঠিন কাজ। এখানকার মানুষেরা জীবিকার তাগিদে ব্যস্ত ও সংগ্রামী জীবন কাটান। নানা সীমাবদ্ধতায় সন্তানদের পড়ালেখা করানোর দিকে মনোযোগ দিতে পারেন না। এমন একটি বাস্তবতায় এক যুগ ধরে এক্সিলেন্ট আইডিয়াল স্কুল যে কাজটি করে যাচ্ছে তা প্রসংশনীয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান আলোচক সফুরা বেগম মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ দৌলত আহমেদ চৌধুরী বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে শিশুদের পড়ালেখা করানোর ক্ষেত্রে এ স্কুলটি আমাদের মুগ্ধ করেছে। চরের শিশুরাও পড়ালেখা শিখে উন্নত জীবন গড়তে পারে, এমন ধারণা ও বিশ্বাস আমাদের আছে। ওই কাজটিই এক্সিলেন্ট আইডিয়াল স্কুল এক যুগ আগে শুরু করেছে। চরের আলোকবর্তিকা হয়ে উঠুক স্কুলটি, এমন প্রত্যাশ থাকবে।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কবি নকিব মুকশি বলেন, কচিকাঁচাদের সার্বিক বিকাশের লক্ষ্যে এই স্কুল পরিচালনা করে যাচ্ছি। আজ যা বীজ কাল তা বৃহৎ কাজ গাছ, বটবৃক্ষ হয়ে দাঁড়াবে, যার ছায়ার নিচে হাজারো মানুষ শ্রান্তি দূর করবে। আমি স্বপ্ন দেখি আমার বাংলাদের প্রতিটি গ্রামে অঞ্চলে এমন বটবৃক্ষ তৈরি হোক, যার শিক্ষার হিমেল হাওয়ায় আজকের শিশু আগামী দিনের কাণ্ডারী হয়ে দাঁড়াবে, বিশ্বের সাথে মহাজগতের সাথে এক মহাসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে, বুদ্ধিশিখরে পৌঁছাবে, মহাজগতের রহস্য ও তার ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে ভাবিত হবে, বুঝতে শিখবে। যা তাদের জীবন সম্পর্কে গভীর এক বোধ তৈরি হবে।

ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতিটি চরাঞ্চলে এমন মানসম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যাদের শিক্ষার যথার্থ আলোর মধ্যে প্রবেশ করতে পারবে একটি পিছিয়ে পড়া সমাজ। স্কুলটি চরের, অথচ পড়ালেখায় উপজেলায় শীর্ষস্থানীয়, এটা আসলে অনুকরণীয় ব্যাপার।

কোদালপুর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম মিজানুর রহমান বলেন, আমি এ প্রতিষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় যেকোনো পরিস্থিতিতে ছিলাম, আছি এবং থাকব। এ এলাকার প্রতিটি ঘরে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দিতে নকিব মুকশির অভিযাত্রায় আমি ছিলাম, আছি, ভবিষ্যতে আরও নিবিড়ভাবে থাকব, যাতে এ চরাঞ্চলে শিক্ষার ফুল দিকে দিকে ফোটে।

অনুষ্ঠনে কবি শ্যামসুন্দর দেবনাথ কবিতা আবৃত্তি করেন। পরে অনুষ্ঠানের অতিথি, শিক্ষক ও অংশগ্রহণকারীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

ইত্তেফাক/পিও