ঢাবিতে রমজান মাসের আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ 

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৪, ২০:৪১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীদের দ্বারা আয়োজিত ‘প্রোডাক্টিভ রামাদান’ শীর্ষক এক সেমিনারে শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ৭ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। 

বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু টাওয়ার গেটে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন– শাহিনুর রহমান রাসেল, রেজওয়ান, সাফওয়ান, রিফাত, সাকিব তূর্য, মাহাদী, কুতুবউদ্দিন। আহতরা সকলেই ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা রমজান মাসকে কেন্দ্র করে একটি সেমিনার আয়োজন করে। জোহরের নামাজের পর শিক্ষার্থীরা একে একে জড়ো হয় বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের মসজিদে। ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী বসে তাদের প্রোগ্রাম পরিচালনা করতে গেলে বঙ্গবন্ধু টাওয়ার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সিরাজুল হক এসে শিক্ষার্থীদের ‘এখানে অনুমতি ছাড়া প্রোগ্রাম করা যাবে না’ বলে মসজিদ থেকে উঠে যেতে বলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা বের হতে শুরু করলে শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম সুজনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শিক্ষার্থীদের অতর্কিত হামলা চালায়। 

আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আখতার হোসেন বলেন, রমজান মাস উপলক্ষে আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটি সেমিনার আয়োজন করেছে। এর সঙ্গে অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের কোনো ধরনের সংযোগ নেই। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এবং শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসে অতর্কিত হামলা চালায়।  

তিনি বলেন, হামলায় শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজনকে চিহ্নিত করতে পেরেছি। বাকিরা ঢাবি ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতাকর্মী। বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা গেলে তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করা যাবে। তবে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আইন বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী আবু তালহা বলেন, আইন বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় কিছু ইস্যু নিয়ে। আলোচনা করার উদ্যোগ নেয। কিন্তু আমাদের প্রোগ্রাম করতে না দিয়ে বের হয়ে যেতে বলে। আমরা বের গেলে ছাত্রলীগের ছেলেরা অতর্কিত হামলা করে। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম সুজনকে একাধিকবার কল করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব ঘটনাকে বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাকসুদুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় আমরা এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

ইত্তেফাক/এবি