নির্বাচনি সহিংসতায় যুবকের মৃত্যু

সোনারগাঁওয়ে গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রাম পুরুষশূন্য

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৪, ০২:৩০

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে নির্বাচনি সহিংসতায় হূদয় ভূইয়া নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রাম। গ্রেফতার এড়াতে গ্রামবাসী পালিয়ে বেড়াচ্ছে। গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত দুধঘাটা গ্রাম প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। ঐ ঘটনায় দুটি মামলা হওয়ার পর এ অবস্থার তৈরি হয়েছে। এদিকে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বুধবারও ঐ গ্রামে পুলিশের একটি গাড়ি অবস্থান করছিল।

ইতিমধ্যে গত মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ বিজয়ী প্রার্থীর দুই কর্মী-সমর্থককে গ্রেফতার করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছে। আদালত তাদের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামের কাশেম আলী সরকারের ছেলে শহিদুল ইসলাম সরকার ও ছোট কোরবানপুর এলাকার ফরিদ উদ্দিনের ছেলে হযরত আলী।

এদিকে নির্বাচনি সহিংসতায় হূদয় ভূইয়া নামের যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় গত রোববার বিকেলে নিহতের বড় ভাই ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় নির্বাচনে সদ্য বিজয়ী ইউপি সদস্য আব্দুল আজিজ সরকারসহ ২১ জনকে আসামি করা হয়।

পাশাপাশি আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত আরো অনেককে। এছাড়া ফল ঘোষণার পর পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় সোনারগাঁও থানার উপপরিদর্শক ফিরোজ আহম্মেদ পৃথক আরেকটি মামলা করেন। ঐ মামলায় অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করা হয়। 

গতকাল বুধবার সকালে ঐ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গ্রেফতার আতঙ্কে ঐ এলাকা প্রায় পুরুষশূন্য। দুই মামলায় দুই শতাধিক আসামি করে মামলা দেওয়ার কারণে ঐ গ্রামের পুরুষেরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। পুলিশের করা মামলায় আসামি অজ্ঞাত থাকার কারণে যে কেউ গ্রেফতার হতে পারেন এমন আশঙ্কায় বাড়িছাড়া গ্রামের পুরুষ মানুষ। 

নিহতের বড় ভাই রিটন ভূইয়ার দাবি, নির্বাচনি সহিংসতায় তার ছোট ভাই হূদয় ভূঁইয়া কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। নির্বাচন শেষে ফল জানতে গিয়ে আজিজ সরকারের সমর্থকদের গুলিতে মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন তিনি।

নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী আজিজ সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। সোনারগাঁও থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান পিপিএম বলেন, নির্বাচনি সহিংসতার পর থেকেই আসামিরা পলাতক। দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন