পুরো নাম মানিক আহমেদ। এদেশে ‘ড্রামার মানিক’ হিসেবেই সবার কাছে প্রিয় ও পরিচিত। বাংলাদেশের মিউজিশিয়ানদের ভেতরে পারকাশন, ড্রামস থেকে শুরু করে মিউজিকের রিদম সেকশনের সেরা প্রতিনিধি একজন তিনি। প্রায় ৩ যুগ ধরে ড্রামসের তালে তালেই নিজেকে বেঁধেছেন। কৈশর থেকে এই ইন্সট্রুমেন্টই তার জান-প্রাণ। বর্তমানে একাধিক প্রতিষ্ঠিত ব্যান্ডে মানিকের ছাত্ররাই পারফর্ম করে যাচ্ছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই বাদ্য শিখিয়েছেন অনেককেই।
মিউজিক ক্যারিয়ারে মানিক প্রথম কোনো মিউজিশিয়ান যিনি আন্তর্জাতিক কোনো ইন্সট্রুমেন্টের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হয়েছিলেন। ‘রোল্যান্ড’ ব্র্যান্ডের ড্রামস কীট ও রিদম প্রোগ্রামিং ইন্সট্রুমেন্টের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ছিলেন তিনি। বিশ্বের সেরা ড্রামারদের সাথে তাই আন্তর্জাতিক উঠোনে ছিল মানিকের নাম।
মানিক খানিকটা আক্ষেপ করেই বলেন, ‘আমাদের দেশে তো এমনিতেই মিউজিশিয়ানদের মূল্যায়ন নেই। তা পত্রিকায় বলি বা টিভিতে। এমনকি স্টেজেও। আর একটি বিষয় খেয়াল করবেন, স্টেজে গায়ক যেমন সবার লাইম লাইটে থাকে, তার সাথে গিটারিস্ট বা কী-বোর্ডিস্টের ওপরেও ফোকাস পাওয়া যায়। কিন্তু কখনওই আপনি একজন ড্রামারকে দেখতে পারবেন না দর্শকসারি থেকে। তাই আমাদেরকে কেউ চেনে না। কিন্তু একটি গানের মূল চালিকাশক্তি রিদমে। কী আর করা! এটাই নিয়ম হয়ে আসছে। আর এসব কারণে কিন্তু আমাদের দেশে অন্যান্য ইন্সট্রুমেন্ট শিখতে চাইলেও ড্রাম বা পারকাশন শেখার আগ্রহ অনেকেরই থাকে না।’
এবারে মানিক বিশ্বমানের একটি রিদম ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে হাজির হলেন। ইন্সট্রুমেন্টের নাম ‘জেনড্রাম’। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলোতে এই ইন্সট্রুমেন্টের প্রধান ডেভিড হানি বাংলাদেশের ড্রামার হিসেবে এটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত করেছে মানিককে। মানিক বলেন, ‘ডেভিডের সাথে আমার সাথে ফেসবুকে পরিচয়। এছাড়া বাফেলোতে থাকে আমার প্রবাসী বন্ধু কণ্ঠশিল্পী সাথি। এই বিষয়ে আমার আর ডেভিড হানির ভেতরে সেতুবন্ধন তৈরি করে দেয় সাথি নিজে।’
আমেরিকান কোম্পানির এই নতুন ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে এখন স্টেজশো করছেন মানিক। সময়ের সাথে সমকালীন থাকার ব্যাপারে মানিক বলেন, ‘প্রত্যেক মিউজিশিয়ানের উচিত সময়ের সাথে সাথে আপডেট থাকা। আর এ কারণেই এই আধুনিক যন্ত্রটি যেমন স্টেজে খুবই সহায়ক, তেমনি রেকর্ডিংয়েও। এই যন্ত্রটি পাশ্চাত্যে এখন ব্যবহার বাড়ছে। ভারতের প্রখ্যাত মিউজিক কম্পোজার সেলিম সুলায়মান এই বাদ্যযন্ত্রটি বাজিয়ে থাকেন। তিনি ভারতের প্রতিনিধি, বাংলাদেশের আমি।’
মানিক আরো বলেন, ‘এটির বর্তমান বাজার মূল্য সাড়ে চার লক্ষ টাকা। এই যন্ত্রটি একই সাথে তবলা, সবধরণের ড্রামস, পারকাশনসহ এটি টোটাল রিদম প্রোগ্রামিংয়ের কাজ করবে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো— এই যন্ত্রটি হাতে নিয়ে যে কোনো কণ্ঠশিল্পী স্টেজে গাইতে পারবে। এখনকার রকস্টাররা অনেকেই এটি নিয়ে স্টেজে উঠছেন।’
বীটের তালে তালেই মানিক তার একটি জীবন পার করলেন। নতুন মিউজিশিয়ানদের সম্পর্কে মানিকের আশাবাদ, ‘ওরা অনেক মেধাবী। কিন্তু অস্থির প্রচন্ড। এটা হয়ত সময়ের প্রবনতা। তবে আমি বলবো, সংগীতটা একটা আরাধনা জায়গা ভেবে কাজ করা উচিত। হুট করে এ থেকে কিছু পেতে চাওয়াটা বোকামি। আমি নিজেকে এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বারবার সংস্করণ করেছি, সময়টাকে ধরার জন্যই। আমার ডেনড্রাম এরই অংশ। এই ইন্সট্রুমেন্টের বাংলাদেশে উদ্বোধন উপলক্ষে একটি ইন্সট্রুমেন্টাল ভিডিও রিলিজ দেন তিনি। শিথিল রহমানের নির্মাণে এই ভিডিওটি এরই মধ্যে একাধিক শিল্পী মিউজিশিয়ান তাদের নিজ নিজ ওয়ালে শেয়ার দিয়েছেন। নতুন এই বাদ্যের সাথে মানিক পরিচয় করিয়ে দিতে চান বাংলাদেশে স্টেজকে। নিজেই শানিত হতে চান এই শব্দকৌশলে!
