বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক দুটি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দিনে কর্মবিরতি পালন করেছে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একাংশ। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষে অবস্থান নেয় আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এসময় তারা হাসপাতাল পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
দুপুরে হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দুটি কমিটি নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা দ্রুতই সমাধান করা হবে।
স্মারকলিপিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দাবি করেছেন, কাউকে অবহিত না করে হাসপাতালের পরিচালকের মাধ্যমে অনুমোদিত ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের দুটি কমিটি প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক দুটি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কর্মবিরতি শুরু করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একাংশ। ঐ দিন দুপুরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন ডক্টরর্স এ্যসোসিয়েশন ও বঙ্গবন্ধু ডক্টরর্স এসোসিয়েশন নামে দুটি কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। দুই কমিটি প্রকাশ পাওয়ার পর কমিটি প্রত্যাখান করে কর্মবিরতি শুরু করে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একাংশ। তবে এ কর্মবিরতির প্রভাব পরেনি রোগীদের মধ্যে। ইন্টার্ন দের এক অংশ কর্মবিরতিতে থাকলেও রোগীদের চিকিত্সা সেবা নিশ্চিত করছেন কমিটির পক্ষে থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসক ও হাসপাতালের সরকারি চিকিৎসকরা।
আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক মুহসিন বিভা বলেন, আমরা যার ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছি তাদের না জানিয়ে ইন্টার্ন ডক্টরর্স এসোসিয়েশন ও বঙ্গবন্ধু ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশন দুটি কমিটি গঠন করা হয়। যার সাথে আমাদের অধিকাংশ ইন্টার্ন চিকিৎসকের কোন সম্পৃক্ততা নেই পুরো হাসপাতালকে অন্ধকারে রেখে অর্থাৎ বড় একটি অংশকে বাদ দিয়ে একটি পকেট কমিটি করা হয়। এ কটির বিপক্ষে আমরা প্রতিবাদ করছি, প্রতিবাদ স্বরুপ আমরা যারা ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছি তারা স্বেচ্ছায় কর্মস্থল ত্যাগ করেছি। আমরা পরিচালক স্যার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছি, তাতে ১৮৫ জন ইন্টার্ন চিকিৎসকের স্বাক্ষর রয়েছে। এ কমিটি দুটির যারা পোস্টে রয়েছে তাদের না জানিয়ে তাদের ঐ কমিটিতে রাখা হয়েছে।
তারা নিজেরাও জানেনা যে তারা কমিটির সদস্য। যাদের না জানিয়ে কমিটিতে না দেয়া হয়েছে তারা একই সাথে পরিচালক বরাবর পদত্যাগ পত্র দিয়েছে। আমাদের একটাই দাবি যতক্ষন পর্যন্ত এ কমিটি বাতিল হবে না ততক্ষন পর্যন্ত আমরা কর্মক্ষেত্রে ফেরত যাবো না।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে তা নিয়ে যে সমস্যা দেখা দিয়েছে সেটি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক শামীম ও বিসিসি মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর যৌথ উদ্যোগে অতি শীগ্রই এর সমাধান হয়ে যাবে। আসলে যে কমিটিটি হয়েছে সেটিতে পদবঞ্চিত অথবা আশানুরূপ পদ না পাওয়ায় তারা এমনটা করছে। এ কমিটির সাথে কিছু ইন্টার্ন দ্বিমত পোষন করেছে যার ফলে এ বিক্ষাভ।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সাথে যে মিটিং হয়েছে সেটি হচ্ছে ১৯৯৮ সালের ইন্টার্ন এ্যাক্ট সে অনুযায়ি আমি, প্রিন্সিপাল (কলেজ), আমাদের তিন বিভাগীয় প্রধান (সার্জারি, গাইনি, মেডিসিন) এবং আমাদের উপ-পরিচালক একটা কমিটি করা আছে যেকোন সিদ্ধান্তের ব্যাপারে। সেখানে আমরা বসে আলাপ আলোচনা করে এই বিষয়ে উপনিত হয়েছি যে মেয়র মহোদয় যে কমিটি সুপারিশ করেছে আবার সেখান থেকে যে সুপারিশকৃত কাগজ আসবে সেটিকে আমরা গ্রহন করবো।
উল্লেখ্য, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গড়ে ২৩০ থেকে ২৫০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক রয়েছে। তাদের নিয়ে প্রতি এক বছরের জন্য ৩১ সদস্য বিশিষ্ট ইন্টার্ন ডক্টরর্স এসোসিয়েশন ও ১৮ সদস্য বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশন কমিটি গঠন করা হয়।
