সততার সঙ্গে কাজ করতে বলায় দুই শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ০৮:৫১

শিক্ষকদের সততা ও ন্যায়ের সঙ্গে কাজ করতে বলায় দুই শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে বেনামে অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষকরা। 

জানা যায়, মো. মাসুদ করিম মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসাবে কয়েক মাস হলো যোগদান করেছেন। যোগদান করে প্রথমে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও অফিস সহকারীদের সঙ্গে মিটিং করে সবাইকে বলেছেন, এখন থেকে শিক্ষা অফিস একটু আলাদাভাবে চলবে। আপনারা কেউ শিক্ষকদের সঙ্গে স্বজনপ্রীতি করবেন না; যাতে করে শিক্ষরা অনৈতিক কোনো কাজ করার সুযোগ পায়। যার যার ক্লাস্টারের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বলে দিবেন এখন থেকে স্কুলে সময় মতো আসতে হবে। স্কুলে এসে ফাঁকি দেওয়া যাবে না। স্কুল চলাকালীন কোনো শিক্ষক শিক্ষা অফিসে আসতে পারবে না। যদিও আসে তাহলে যথাযথ কারণ থাকতে হবে। স্কুল চলাকালীন কোনো শিক্ষক প্রাইভেট পড়াতে পারবে না। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে শিক্ষকরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদ করিম ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দাতুন নেছা রূপাকে বদলি করার জন্য ও তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যারা অনৈতিক কোনো সুযোগ-সুবিধা নিতে পারেনি তারা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। গত বুধবার (৬ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলা কার্যালয়ে ১১ জন শিক্ষকের সাক্ষ্য নেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন। পরে দুই শিক্ষা অফিসারেরও সাক্ষ্য নেওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি কমিটি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক বলেন, যারা এতদিন অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতো এখন এই শিক্ষা অফিসার আসার পর কোনো অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে না পারায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দুই শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছে। আমরা সাধারণ শিক্ষক আগেও আমরা কোনো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করিনি এখনও কোনো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে চাইও না। 

মাদারীপুর পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বাচ্চু বলেন, ওই দুই শিক্ষা অফিসার ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম করেই যাচ্ছে। এ জন্যই আমাদের এই প্রতিবাদ।

সহকারী সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দাতুন নেছা রূপা বলেন, অভিযোগ তো যে কেউই দিতে পারি। তদন্তে সত্য মিথ্যা উঠে আসবে। 

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মাসুদ করিম বলেন, ভালো কাজ করতে গেলে নানা বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এতদিন হাতেগোনা কয়েকজন শিক্ষক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত। আমি তাদের অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দিয়েছি। তাই আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় বেনামে কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ দিয়েছে। যার কোনো ভিত্তিই নেই।

ইত্তেফাক/পিও