বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

প্রধানমন্ত্রীর উপহার: সংস্কার হচ্ছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো 

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ১২:১৬

নওগাঁর রাণীনগরের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ফেটে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ঘরগুলোর সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ডাকাহার চৌধুরীপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অতি ঝুঁকিপূর্ণ দুটি ঘর ভেঙে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। ফাটল ধরা অন্যান্য ঘরগুলোর বাসিন্দারা ঝড় ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঝুঁকিপূর্ণ এমন ঘরগুলোতে বসবাস করা নিরাপদ মনে করছেন না।  

গত ৯ মার্চ ‘দু’বছর না পেরোতেই ফাটল ধরেছে আশ্রয়ণের ঘরে’ শিরোনামে ইত্তেফাক অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক জেলা প্রশাসনের একটি তদন্ত টিম ঘরগুলো পরিদর্শন করে। গত ১৮ মার্চ থেকে ঘরগুলোর সংস্কারকাজ শুরু হয়। 

ডাকাহার এলাকার চৌধুরীপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৯টি ঘরের মধ্যে অতি ঝুঁকিপূর্ণ ১৭ ও ১৮ নম্বর বাড়িটি ভেঙে পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। অন্যান্য ফেটে যাওয়া ঘরগুলো সংস্কার করা হচ্ছে দায়সারাভাবে। সংস্কার সত্ত্বেও ফেটে যাওয়া অংশগুলো থেকে বালু ও সিমেন্ট খুলে পড়ছে। ফলে হতাশা বিরাজ করছে এতে বসবাসরত বাসিন্দাদের মধ্যে।  

 

ডাকাহার চৌধুরীপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৮ নম্বর ঘরের বাসিন্দা মামুন খন্দকার বলেন, আমি একজন নির্মাণ শ্রমিক। আমার ঘরটি ভাঙ্গার সময় বুঝতে পারি যে—কম পরিমাণ উপকরণ দিয়ে তাড়াহুড়ো করে যা-তাভাবে ঘরটি তৈরি করা হয়েছে। হাত দিয়ে ধাক্কা দিলেই ঘরটির দেয়াল ভাঙা যাচ্ছে। ঘরের নিচের ভিত এতটাই খারাপ যে ফেটে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। 

তিনি আরও বলেন, ঘরগুলো নির্মাণের সময় ইট এবং ঘরের দেয়ালে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না দেওয়ায় গাঁথুনি মজবুত হয়নি। ফলে পরে প্লাস্টার করার পর দেয়ালের ইটগুলো পানি শুষে নেয়। ফলে, হাত দিয়ে চাপ দিলেই প্লাস্টার উঠে যাচ্ছে। যার কারণে এই ঘরগুলো যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। 

একই অবস্থা কালিগাঁও (মালিপুকুর) আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২টি ও সিলমাদার গুচ্ছ গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১১টি ঘরের। বিশেষ করে, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গৃহীত আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে উপজেলায় নির্মিত ৯০টি ঘরের অধিকাংশ ঘরগুলোতে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে। কোনো কোনো ঘরের প্রধান দেয়াল, বারান্দা, ঘরের নিচের অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ফেটে যাওয়া ঘরগুলোর দরজা ও জানালা বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে চরম বেকায়দায় রয়েছেন বাসিন্দারা।   

সিলমাদার গুচ্ছ গ্রামের ৭ নম্বর ঘরের বাসিন্দা হেনা বেগম বলেন, আমাদের কপাল এমনই খারাপ যে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরে ৩ বছর ঠিকমতো বসবাস না করতেই সেগুলো ফেটে গায়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। আকাশে মেঘ ডাকলে নিশ্চিন্তে ঘুমানোর পরিবর্তে জেগে ঘর পাহারা দিতে হয় এই ভয়ে, ঝড়ে সেগুলো কিনা ভেঙে শরীরের উপর পড়ে। সম্প্রতি দুইজন স্যার এসে ফেটে যাওয়া ঘর পরিদর্শন করে বলে গেছে, সামান্য ফাটলে ঘরের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। 

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আশেকুর রহমান জানান, আশ্রয়ণের প্রথম পর্যায়ের ঘরগুলো নির্মাণের ডিজাইনে সমস্যা ও বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ কম থাকার কারণে ঘরগুলো মজবুত আকারে নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ের ঘরগুলো অনেক মজবুত করে নির্মাণ করার কারণে সেগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। যেখানে-যেখানে আশ্রয়ণের ঘরগুলোতে ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো সংস্কার করে নিরাপদে ঘরে বসবাস করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।   

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিল্টন চন্দ্র রায় মোবাইল ফোনে জানান, ফেটে যাওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো পরিদর্শন করে ২টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ ঘর ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও ফেটে যাওয়া ঘরগুলো পরিদর্শন করে আপাতত সংস্কার করার নির্দেশনা দিচ্ছেন। এই বিষয়টি প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে যে নির্দেশনা আসবে, সেইভাবে কাজ করা হবে।  

উল্লেখ্য, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গৃহীত আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি ধাপের আওতায় উপজেলার একডালা, কালীগ্রাম, বড়গাছা ও কাশিমপুর ইউনিয়নে প্রথম পর্যায়ে ৯০টি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩৩টি ও তৃতীয় পর্যায়ে ৫৩টিসহ মোট ১৭৬টি গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসএআর/পিও