চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

শেষ কর্মদিবসে ৪৪ জনকে নিয়োগ দিলেন ভিসি

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৪, ০৯:০২

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বিদায়ি ভিসি অধ্যাপক শিরীণ আখতার তার শেষ কর্মদিবসে ৫৫০ টাকা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে ইয়াহিয়া টিপু নামে এক ব্যক্তিকে মনোবিজ্ঞান বিভাগের কম্পিউটার ল্যাব সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গিয়েছিলেন।

তবে গত বুধবার রেজিস্ট্রার অফিসে জয়েন করতে এসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন ইয়াহিয়া টিপু। তাকে মারধরের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারকে শাসান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি ছাত্রলীগের বাইরে কারো বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাওয়ার অধিকার নেই। তাই তারা বিদায়ি উপাচার্যের নিয়োগকৃতদের মধ্যে ছাত্রলীগ ছাড়া বাকিদের নিয়োগ বাতিলের দাবি তোলেন।

দাবিকারীদের মধ্যে ছিলেন শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ওয়াহিদুল ইসলাম, মোরশেদুল আলম রিফাত, মইনুল ইসলাম রাসেল, আল-আমিন শান্ত, রায়হান ও আশিব তানিম। তাদের পক্ষে রেজিস্ট্রারকে বোঝাতে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. সুমন মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মনসুর আলী।

নিয়োগ ইস্যুতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বিদায় নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সদ্য সাবেক উপাচার্য শিরীণ আখতার। নিজের শেষ কর্মদিবসে তাড়াহুড়ো করে ইয়াহিয়া টিপুর মতো ৪৪ জন ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ দেন তিনি। এর মধ্যে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে উচ্চমান সহকারী, নিম্নমান সহকারী, ঊর্ধ্বতন সহকারী, নিরাপত্তা প্রহরী, অফিস পিয়ন, বুক বাইন্ডার, কম্পিউটার ল্যাব সহকারী, ভোজনালয় সহকারী, পেশ ইমাম, ঝাড়ুদার এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদে ছয় মাসের জন্য এসব নিয়োগ দিয়ে যান তিনি। এ নিয়ে ক্যাম্পাস জুড়ে ওঠে সমালোচনার ঝড়।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটিউট অনুযায়ী নিয়োগের জন্য অনুসরণ করতে হয় বেশ কিছু নিয়ম। যেমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, প্রার্থীদের আবেদন যাচাই, মৌখিক অথবা ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণ ইত্যাদি। উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগের সুপারিশের পর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট যাচাই-বাছাই শেষে নিয়োগের অনুমোদন দেয়। অথচ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দায়িত্বের শেষ দিন কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই এসব নিয়োগ দেন উপাচার্য—এমন গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

যদিও ২০১৮ সাল থেকে দৈনিক মজুরি কিংবা অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ বন্ধ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। শুধু শেষ দিনই নয়, শিরীণ আাাখতারের চার বছরের মেয়াদকালে প্রায় ৫৫০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন। শেষ সময়ে নিয়োগ পাওয়াদের বেশির ভাগই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. শামীম উদ্দিন বলেন, আমরা সিন্ডিকেট থেকে একটি কমিটি করে দিয়েছিলাম, যাতে করে কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্তকে না মেনে শিরীণ আখতার নিজের মনগড়া নিয়োগ দিয়ে গেছেন। সিন্ডিকেটের কমিটি গঠনের পর থেকে যতগুলো এরকম নিয়োগ হয়েছে তার প্রতিটিই অবৈধ।

তবে দায়িত্ব নিয়ে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ প্রত্যয় জানান। তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। এক জন অযোগ্য ব্যক্তিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিলে তিনি ৪০ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতি করবেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে তাই কোনো ছাড় নেই। যে কোনো মূল্যে ভালো শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে।

 

ইত্তেফাক/এনএন