হাইকোর্ট মাজার

এক কাতারে হাজারো মানুষের ইফতার

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪, ০১:০০

হাইকোর্ট মাজার গেট। ইফতারের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, তত মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। যাত্রীহীন সারি সারি রিকশা ঢুকছে। হাজারো মানুষের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে ইফতারিতে সব পেশার মানুষের মহাসম্মিলন ঘটবে এখানে। হাইকোর্ট মাজার নামে পরিচিত সুপ্রিম কোর্ট মাজার ও মাজারের মসজিদে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মানুষ ইফতার করেন। প্রথম রোজা থেকে শুরু করে শেষ দিন পর্যন্ত এ ইফতারির আয়োজন থাকে। ইফতারের আয়োজন করে মাজার ও মাজারের মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

প্রতি বছরই ধর্মপ্রাণ মুসলমান ও মাজার শরিফ ভক্ত-আশেকানদের ভিড় থাকে হাইকোর্টের হজরত শাহ খাজা শরফুদ্দিন চিশতী (রহ.) ওরফে বাবা ওলি বাংলার মাজারে। তবে রমজান এলে মাজারে ভিড় বেড়ে যায়। ইফতারে শামিল হন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, দিনমজুর, ভিক্ষুক, পথচারী, নারী, বৃদ্ধসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সবাই ভক্তি আর শ্রদ্ধার সঙ্গে মাজারে ইফতারি করেন। ইফতারের উপকরণে থাকে মুড়ি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজু, চপ, আপেল, মাল্টা, রুহ আফজার শরবত।

বেলা ৩টার পর থেকে মাজারে আসতে শুরু করেন রোজাদার ও ভক্ত-আশেকান। আসর নামাজ শেষে দোয়া ও জিকিরে বসেন তারা। এবাদত শেষে ভিক্ষুক, ধনী-গরিব, ব্যবসায়ীসহ হাজারো মানুষ এক কাতারে বসে যান। তাদের সামনে ইফতারিসহ প্রায় ৫০০ গামলা চলে আসে। প্রতি গামলায় পাঁচ থেকে সাত জন করে ইফতার করতে পারেন।

পুরুষের পাশাপাশি নারীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৫০০ নারী এ ইফতারে অংশ নেন। তাদের সেবায় নিয়োজিত থাকেন মাজার ও মসজিদে প্রায় ৩০ জন স্বেচ্ছাসেবক। রয়েছেন খাদেম ও আনসার সদস্যরা। মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, হাইকোর্ট মাজারের অসংখ্য ভক্ত রয়েছেন। যারা প্রতিনিয়ত এখানে থাকেন। তবে রমজানে ভক্ত আশেকানদের সংখ্যা বহুগুণ বেড়ে যায়। ইফতারের পাশাপাশি লঙ্গরখানায় ফকির-গরিবের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তাছাড়া মাজারের পাশে থাকা হেফজখানায় ইফতার ছাড়াও খাবার ও সেহরির ব্যবস্থা থাকে।

মাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, মাজারে প্রতিদিন কেউ না কেউ ফল নিয়ে আসেন। ইফতারে পানি ও শরবত পান করার জন্য দুই থেকে আড়াই হাজার গ্লাস রয়েছে। এগুলোও মাজার ভক্তরাই পাঠান। ইফতারের পেছনে প্রতিদিন ব্যবস্থাপনা কমিটির আনুমানিক একটা বাজেট থাকে। সলিম শাহ নামে মাজারের এক ভক্ত বলেন, মাজারে আশেক ভক্তদের সেবা করতে ভালো লাগে। রমজানে একসঙ্গে ইফতার খাওয়া সৌভাগ্যের। শামীম ইসলাম পেশায় গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। তিনি মাজারে ইফতার সামগ্রী এনেছেন।

তিনি বলেন, বছরের কিছু টাকা জমিয়ে এখানে আসি। রোজাদারদের সঙ্গে আল্লাহর ইবাদত-ইফতার করি। এ সময় আমরা পুরো পরিবার নিয়ে এখানে ইফতার করতে আসি। সারি করে রাখা ইফতারের কোনো একটি থালার পাশে বসে পড়লেই হয়।

ইত্তেফাক/এমএএম