মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

স্বাধীনতার অভ্যুদয়

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৪, ১১:১৫

নতুন প্রজম্মের জন্য বাংলাদেশের ইতিহাসকে বারবার স্মরণ করতে হয়। স্বাধীনতার মাস মার্চে ইতিহাসের এ নির্যাসটুকু উপস্থাপন করার ঐকান্তিক এ প্রয়াস। বাঙালির মুক্তির সনদ হয় দফা দাবির সমর্থনে ও গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সমগ্রা পূর্ব পাকিস্তান উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের অভ্যন্তরে ১৯৬৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সর্জেন্ট জহুরুল হককে এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামছুজ্জোহাকে সেনা সদস্যরা নির্মমভাবে গুলি করে হত্য করে। '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ফলে ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করা হয়। জননেতা শেখ মুজিবুর রহমান, লে. কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন এবং সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ ৩৪ জনকে সম্মানের সঙ্গে মুক্তি দেওয়া হয়। ২৫ ২ মার্চ প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান পদত্যাগে বাধ্য হন। জেনারেল ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বচনে আওয়ামী লীগ এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও সামরিক শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে।
১৭ ডিসেম্বর, পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৮৮ আসন পায়। পাকিস্তান আওয়ামী লীগের পার্লামেন্টারি পাটির। সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানের পার্লামেন্টারি পর্টির লিডার এবং প্রদেশিক পার্লামেন্টারি পার্টির সভায় এম মনসুর আলীকে পূর্ব পাকিজন পর্লামেন্টরি পার্টির লিডার নির্বাচিত করা হয়। '৭০-এর নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং এম মনসুর আলী পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হতে
থাকেন। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী এ বিজয় মেনে না নিয়ে ষড়যন্ত্রের নীলনকশা বুনতে থাবেন।
১৯৭১ সালের ১ মর্চ, পাকিস্তান রেডিওতে দুপুর ১: ০৫ মিনিটে ৩ মার্চ আদ্ভুত জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্ট বললের জন্য স্থগিত ঘোষপর প্রতিবাদে হাজার হাজার দর্শক, ছাত্র-জনতা রাস্তায় বিক্ষোতে ফেটে পড়ে। ৩ মার্চ পল্টনের মহাসমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের উপস্থিতিতে স্বধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়। ৭ মার্চ পড়ন্ত বিকালে তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসমুদ্রে স্বাধীনতাসংগ্রামের মহানায়ক ও সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দপ্ত পায়ে মঞ্চে উঠলেন এবং হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ কবিতাখানা পাঠ করলেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বধীনতার সংগ্রাম'। ঐতিহাসিক ভাষণের পর ঢাকাসহ সমগ্র দেশ জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে রূপন্তরিত হয়। ১ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থা মূলত বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই পরিচালিত হতে থাকে। অন্তর্জতিক নিউজ ম্যাগাজিন নিউজ উইক ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল সংখ্যার প্রচ্ছদ-স্টোরিতে বঙ্গবন্ধুকে 'রাজনীতির কবি' বলে অভিহিত করা হয়।
"২২ ফেব্রুয়ারী ভুট্টো তার লারকানা হাউজে হাঁস শিকারের নামে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, লেঃ জেনারেল আব্দুল হামিদ খান, জেনারেল পিরজাদাকে আমন্ত্রণ জানান। উক্ত বৈঠকেই 'অপারেশন সার্চ লাইট'-এর মূল পরিকল্পনা নির্ধারিত। হয়। সূত্র: মরাসাকার, রবার্ট পেছন)। পেইন।। ঢাকায় পাকিস্তান পার্লামেন্টারি পার্টির লিডার ও আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সমঝোতা নাটক ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। রাত ১১: ৩০ মিনিটে 'অপারেশন সার্চ লাইট' শুরু করা হয়। ঢাকার পিলখানা ইপিআর হেডকোয়াটার, রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোয়ার্টার, জগন্নাথ হল, তদানীন্তন ইকবল হল প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। হাজার হাজার নিরস্ত্র বাঙালি ছাত্র বুদ্ধিজীবী, জনতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, যা ছিল বিশ্বের ইতিহাসে বর্বরোচিত গণহত্যা।
'৭১-এর ২৬ মার্চ ০০:২০ প্রথম প্রহরে পাকিস্তান পার্লামেন্টের মেজরিটি পাটির লিডার আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন- "ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন সকল শক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ কর... (অনূদিত: শেখ মুজিবুর রহমান)"। অতঃপর রাত ১: :৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার বার্তাটি তাৎক্ষণিকভাবে মগবাজার ওয়্যারলেস স্টেশনে পাঠানো হয়।
স্বাধীনতার বার্তাটি ডিএইচএফ চ্যানেলে মগবাজার থেকে সলিমপুর ওয়্যারলেস স্টেশনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বহির্নোঙরে অবস্থানরত
জাতীসংঘের জাহাজ মিনি-ন্য-টিয়া, গ্রিক জাহাজ সালতিস্তার ডিএইচএফ চ্যানেলে সমগ্র বিশ্বে প্রচারিত হয়। পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুকে ঢাকা থেকে লয়ালপুর জেলে স্থানস্তর করা হয়। লয়ালপুর মার্শাল 'ল' কোর্টে শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টিলিজেন্স স্পট রিপোর্ট ৪৩-এর ১ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয় যে, পাবিস্তানের পূর্ব অংশকে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাঙলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন। সায়মন ড্রিাই প্রথম ২৫ মার্চের পরিকল্পিত গণহত্যার খবরটি ৩০ মার্চ ডেইলি টেলিগ্রাফের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে অবহিত করেন, যার শিরোনাম ছিল 'ট্যাঙ্কস এ্যাশ রিভোল্ট ইন পাকিস্তান'। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তিনি তার বর্ণনায় বলেন যে, ব্রিটিশ কাউন্সিল লাইব্রেরি দখলপূর্বক, পাকিস্তানি সেনাসদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের ইকবাল হন ও জগন্নাথ হল লক্ষ্য করে কামান ও মর্টার হামলা চালায়। হলের ছাত্রদের আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। হলের পার্শ্ববর্তী পুকুরে শতশত লাশ ভাসছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রদের অগণিত লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলেন, 'আল্লাহর নামে আর অখন্ড পাকিস্তান রক্ষার অজুহাতে ঢাকা আজ ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং সন্ত্রস্ত এক নগরী। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার কেন্ট ব্লাড, ২৭ মার্চ ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টে একটি টেলিগ্রাম পাঠান, যার শিরোনাম সিলেকটিভ জেনোসাইড'। ৬ এপ্রিল দ্বিতীয় টেলিগ্রামের শিরোনাম ছিল 'ব্লাড'। টেলিগ্রামে পূর্ব পাকিজনের নৃশংস গণহতর
চালাবে, মানবতাবিরোধী ও গণতান্ত্রিক কাঠামো ভূলুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক অর্কাইভ তাদের অবমুক্তকৃত দলিল প্রকাশ করে। সেখানে বাংলাদেশের নারকীয় হত্যগ্যাজ্ঞকে 'জেনোসাইড' হিসেবে উল্লেখ অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস ঢাকাসহ সমগ্র দেশের বর্বরোচিত নিয়োগ দেওয়া হয়। সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হয়। মুজিব নগর সরকারের মেয়াদকাল ছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত।
গণহত্যার চিত্র ১৩ জুন 'সানডে টাইমস'-এ প্রকাশ করেন; যা সমগ্র বিশ্ববিবেককে নাড়া দেয় এবং বিশ্ববাসীকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিক্ষুর করে তোলে। ম্যাসকারেনহাস 'দ্যা রেপ অব বাংলাদেশ' বইয়ের মুখবন্ধে বলেন, 'হিটলারের নয়সি বাহিনীর অমানবিক কার্যকলাপের কাহিনি পড়েছি। বিন্তু ইস্ট বেঙ্গলে যা দেখলাম, তা তার চেয়েও ভয়ংকর ও বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে, ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল এক বিশেষ অধিবেশনে ১৯৭০ সালের নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যের সমন্বয়ে গণপরিষদ গঠন করা হয়। ]গণপরিষদের বিশেষ অধিবেশনেই অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান প্রণীত হয়, যার মূলভিত্তি হচ্ছে সাম্য, সামাজিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার। ২৬ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত 'স্বাধীনতার ঘোষণা' অনুমোদন করা হয়, যা ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়। ১০ এপ্রিল গণপরিষদের বিশেষ অধিবেশনে অনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম স্বাধীন ও সাংবিধানিক সরকার গঠন করা হয়, যা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রপ্রথম গণতান্ত্রিক ও আইনানুগ সরকর। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ও দৈয়ন নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হয়। এম মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব অপর্ণ করা হয় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথ তলার অস্ত্রকাননে দেশি-বিদেশি সাংবদিকের উপস্থিতিতে উল্লিখিত সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যা মুজিব নগর' সরকার হিসেবে পরিচিতি পায়। উক্ত সরকার কর্তৃক কর্নেল এমএজি ওসমানীকে সশস্ত্র বহিনীর অধিনায়ক এবং এম এ রবকে চিফ অব আর্মি স্টাফ হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ নিয়াজির নেতৃত্বে পাকিস্তানের ৯৩ হাজার সৈন্য অস্ত্রশস্ত্রসহ ঐতিহাসিক তদানীন্তন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা ও বংলাদেশের সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান গ্রুপ করাপ্টেন এ কে খন্দকারের উপস্থিতিতে বিকাল ৪: ৩১ মিনিটে আয়ত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন।
৩০ লাখ শহিদের তাজা তপ্ত রক্ত ও ২ লাখ মা-কেনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার উপাখ্যানের পশ্চাতে রয়েছে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর যুগান্তকারী নেতৃত্ব ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক প্রজা। বিশ্বমানচিত্রে স্বধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে 'বাংলাদেশ' নামক একটি নতুন রাষ্ট্র আত্মত্মপ্রকাশ করে।
গণতান্ত্রিক অধিকারের অজুহাতে রাতের অন্ধকারে চলন্ত ট্রেনে মার কোলে জীবন্ত শিশুকে এবং বাসের হেলপারকে ঘুমন্ত অবস্থায় পুড়িয়ে মারা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও হৃদয়বিদারক। এটা কি মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়? করবার ক্ষতবিক্ষত হয়েছে '৭২-এর সংবিধান। বিগত প্রায় দেড় যুগে বাংলাদেশের অবকাঠামোগত দিক, শিক্ষা, শিল্পায়ন, সড়ক-যোগাযোগ এবং অন্যান্য সামাজিক সূচকের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু ব্যাংকিং খাতে অব্যবস্থাপনা, মুদ্রাস্ফীতি ও খেলাফি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার অবিলম্বে বন্ধ করা অতীব জরুরি এবং স্থিতিশীল সুদৃঢ় অর্থনৈতিক অবকাঠামো গঠনে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি।

লেখক: প্রাক্তন সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় চার নেতা পরিষদ

ইত্তেফাক/কেকে