দেশীয় পোশাকে ক্রেতার আস্থা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৪, ০৪:০০

রাজধানীর এক কলেজ শিক্ষার্থী একটি তাঁতের শাড়ি কিনলেন রঙ বাংলাদেশ থেকে। কমলা, সোনালি আর নীল লালের মিশ্রণে তার শাড়িটা খুব পছন্দ হয়েছে । তাঁতের ওপর ব্লক করা শাড়ির দাম পড়েছে ২ হাজারের একটু বেশি। ঐ শিক্ষার্থী জানান, এখান থেকে দুইটি পোশাক কিনেছেন তিনি। বিক্রেতা জানান, গত সপ্তাহ থেকে তাদের বিক্রিতে ঈদের আমেজ শুরু করেছে।

নগরীর শপিংমল আর বিপণিবিতানগুলোতে বাড়তে শুরু করেছে ঈদ কেনাকাটা। দেশি ফ্যাশন হাউজগুলোতে ঈদ আর বৈশাখকে মাথায় রেখে কাপড় ও রঙের ব্যবহারে পোশাক তৈরি করা হয়েছে। প্রধান্য পাচ্ছে দেশীয় মটিফ আর তন্তু। বাংলার মেলা, দেশাল, কে-ক্র্যাফট, বিবিয়ানা, অঞ্জনস, কৃষ্টি, শাদা-কালো, রঙ-বাংলাদেশ প্রভৃতি দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো ঘুরে দেখা গেছে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। এই কেনাকাটায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরের ক্রেতারা জড়ো হচ্ছেন পছন্দের পোশাক কিনতে।

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের জনপ্রিয় দেশীয় শো-রুমগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, দেশীয় ডিজাইনের পোশাক বিক্রি জমে উঠছে। এলিফ্যান্ট রোড থেকে দেশীয় সিল্কের শাড়ি কিনেছেন এক ক্রেতা।  তিনি জানান, শাড়ির ডিজাইনে বেশ নতুনত্ব আছে। এখানে এমব্রয়ডারি কাজের সঙ্গে কারচুপির মিশ্রণে একটি দৃষ্টিনন্দন শাড়ি তিনি পেয়েছেন। দাম পড়েছে ৫ হাজার টাকার কিছু বেশি। পুরো পরিবার নিয়ে সাদা-কালোতে ঈদের পাঞ্জাবি কিনছেন এক ক্রেতা। ছেলে আর নিজের জন্য একই রকম পাঞ্জাবি কিনে খুশি তিনি। আরেক ক্রেতা লিলেনের ওপর এমব্রয়ডারির কাজ করা পাঞ্জাবি কিনেছেন দেশাল থেকে। এক ব্রিক্রেতা  জানান, তাদের বিক্রি বেশ ভালো। 

সাদা-কালো পোশাকের জন্য বিখ্যাত ও জনপ্রিয় শোরুমের এক বিক্রেতা বলেন, অনেক দিন বন্ধ থাকার পর নতুন করে ১০টি দেশীয় ব্র্যান্ড বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের লেভেল ৪-এর আবার যাত্রা শুরু করেছে। এই ঈদ তাদের বড় একটা ভরসার জায়গা। তারা এরই মধ্যে সাড়া পেতে শুরু করেছেন। গত কয়েক দিন তাদের বিক্রি বাড়ছে বলে তিনি জানান। সাদা-কালো প্রতি বছরের মতো এবারও মসলিন, সিল্ক, সুতির সমন্বয়ে বাহারি ডিজাইনের পসরা সাজিয়ে বসেছে। তবে বাংলার মেলার এক জন মনে করেন, এখনো তারা আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না। সামনের ছুটির দিনগুলোকে লক্ষ্য করে আছেন তারা।

এসব দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে ঈদ আর পহেলা বৈশাখকে মাথায় রেখে রং আর তন্তু ব্যবহার করে পোশাক তৈরি হয়েছে সিল্ক, জামদানি, সুতি, খাদি, হাফ সিল্ক, মসলিন ফ্লপ কটন, কাপড়ের ওপর ব্লক-বাটিক, টাইডাউ, কারুচুপি, গুজরাটি প্রভৃতি নানা নকশায় সাজানো পোশাকের দাম পড়বে ১ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।

দামের তালিকায় মসলিন আর জামদানি শীর্ষে। জামদানি, কাতান, মসলিন শাড়ির দাম শুরু ৩ হাজার থেকে। সুতির শাড়ির সর্বনিম্ন দাম ১ হাজার ৪০০ টাকা। সিল্ক শাড়ি পাওয়া যাবে ২ হাজার টাকায়। সুতি পাঞ্জাবির  সর্বনিম্ন দাম ১ হাজার ২০০ টাকা । আর সিল্কের পাঞ্জাবির সর্বনিম্ন দাম ৩ হাজার টাকা । রেডিমেড থ্রিপিস পাওয়া যাবে আড়াই হাজার টাকায়। জামদানি সিল্ক আর মসলিনের থ্রিপিস পাওয়া যাবে সাড়ে ৩ জহাজার টাকায়। একটু ভালোমানের রেডিমেড থ্রিপিস কিনতে গেলে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা গুনতে হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি