শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০
The Daily Ittefaq

৩০ বছর পর গরু চুরির মামলায় হাইকোর্টে খালাস এক ব্যক্তি

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০১:৪৫

৩০ বছর আগে গরু চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হন দুই জন ব্যক্তি। ঐ গ্রেফতারের দুই দিন পর ৫৪ ধারায় আবার গ্রেফতার হন তারা। মামলার নথি পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়ায় নিম্ন আদালতের সাজার রায় বাতিল করেছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে খালাস দেওয়া হয়েছে তোফাজ্জলকে। 

রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, ১৯৯৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আসামিদের ৫৪ ধারায় আটক করে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর প্রার্থনা করেন। কিন্তু ২৫ ফেব্রুয়ারি যে আসামিদের গরুসহ থানায় হাজির করে গ্রেফতার করা হলো, সে আসামি ২৭ ফেব্রুয়ারি ডোমার থানায় কীভাবে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার হয়। এতে স্পষ্ট যে, প্রকৃতপক্ষে এজাহারটি একটি মিথ্যা এজাহার। আসামিদেরকে ফাঁসানোর জন্য এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দিয়েছেন।

রায়ে হাইকোর্ট বলে, মামলাটির এজাহার দাখিল, গ্রহণ ও তদন্তে ব্যাপক অবহেলা, অনিয়ম ও অন্যায় হয়েছে বলে প্রতীয়মান। অন্যদিকে বিচারিক (প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালত) ও আপিল আদালত (দায়রা জজ আদালত) গতানুগতিকভাবে এই মামলায় রায় দেন। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য এবং নথি পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণে উভয় আদালতের চরম অবহেলা ও অনিয়ম করেছেন, যা বিচারকসুলভ নয়। উচ্চ আদালতের এই রায়ের অনুলিপি দেশের সব অধস্তন আদালতে এবং থানায় পাঠাতে রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত ১৯৯৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ফেব্রুয়ারি নীলফামারী থানায় পাঁচটি গরু চুরির অভিযোগে মামলা হয় জয়পুরহাটের কদোয়া চকপাড়ার তোফাজ্জাল ও সাইফুলের বিরুদ্ধে। তদন্ত ও বিচার শেষে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জলকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা জরিমানা করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে সাড়ে নয় বছর পর তিনি আপিল করেন। ২০০৬ সালের ৩১ জানুয়ারি আপিলটি গ্রহণ করেননি নীলফামারীর দায়রা জজ আদালত। এই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন মামলা করেন আসামি। জারি করা হয় রুল। ঐ রুল ১৭ বছর পর হাইকোর্টে শুনানি হয়। শুনানি শেষে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেয় হাইকোর্ট। সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম