সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

জামদানি শাড়ি উপহার পেলেন হিলি, খেলেন মিষ্টিও

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ১২:৪৭

তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ মাঠে পড়ানোর আগের দিন স্বাভাবিক ভাবেই ব্যস্ত ছিল বাংলাদেশ ও সফরকারী অস্ট্রেলিয়া নারী দল। শেষ বারের মতো নিজেদের প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলন ও শিরোপা উন্মোচনের আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত ছিল দুই দল। তবে এদিন এসবের পাশাপাশি অজি অধিনায়ক এলিসা হিলিকে নিয়ে ব্যতিক্রম আরেকটি আয়োজন রেখেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। 

সেখানে প্রথম বারের মতো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে আসা অজি অধিনায়ককে পরিচয় করে দেওয়া হয় বাংলাদেশের কয়েকটি জনপ্রিয় জিনিসের সঙ্গে। পাশাপাশি টাইগ্রেস অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি সফরকারী দলের অধিনায়ককে একটি ঢাকাইয়া জামদানিও উপহার দেন গতকাল শনিবার শিরোপা নিয়ে ফটোসেশন ও সংবাদ সম্মেলন শেষে মাঠে উপস্থিত হন অজি অধিনায়ক হিলি ও টাইগ্রেস অধিনায়ক জ্যোতি। এ সময় আগে থেকেই একটি টেবিল সাজানো ছিল। যেখানে সাজানো ছিল ফুচকা, কাচ্চি, রসগোল্লা, কাঁচের চুড়ি ও একটি লাল রসের ঢাকাইয়া জামদানি শাড়ি। 

আর এসব কিছুর সঙ্গে হিলির পরিচয় করিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় জ্যোতির কাঁধে। টাইগ্রেস অধিনায়ক পরিচয় পর্ব শুরু করে ফুচকা দিয়ে পাশাপাশি হিলিকে এটিও জানিয়ে দেন তিনি যে এই খাবারটি দেশের নারীদের কাছে কতটা জনপ্রিয়। ফুচকাতে সাধারণত টক মেশাতে ব্যবহার করা হয় চা চামুচ কিন্তু বিসিবির ফুচকার প্লেটে দেওয়া ছিল কাটা চামুচ যা নিয়ে খানিকটা হেসেছেন হিলি। তবুও একটি ফুচকা বানিয়ে হিলির দিকে এগিয়ে দেন জ্যোতি এবং বলেন এখন রমজান চলছে তাই আমি এখন খেতে পারছি না তাৎক্ষণিক হিলিও না খেয়ে বললেন আমিও তারপর একগাল হাসি। এরপর কাচ্চির দেশের জনপ্রিয় খাবার কাচ্চার সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় অজি অধিনায়ককে তবে এটিও তিনি গুনলেন আর দেখলেন শুধু খেলেন না।

এরপরই আসে রসগোল্লার পালা যে দেখে তিনি নিজেই বুঝতে পারলেন মিষ্টি জাতীয় খাবর। খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিল এটির দিকে, হয়তো দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছিলেন যে খাবেন কিনা খাবেন না। তবে আর নিজেকে আটকাতে পারেনি চামুচ তুলে নিয়ে রসগোল্লার খানিকটা অংশ মুখেপুড়ে ফেলেন এবং পছন্দ করলেন। এরপর পাশের প্লেটে থাকা লাল-সবুজ রঙের কাঁচের চুড়ি হিলির হাতে তুলে দেন জ্যোতি, আর পুরোটা সময় মনোযোগ দিয়ে জিনিসটা দেখছিলেন তিনি। হয়তো চুড়িগুলো তার মনে ধরেছে আগ্রহ নিয়েই পড়লেন। 

এরপর আরো কয়েকটি চুড়ি নিয়ে পড়লেন নাড়িয়ে শব্দও করলেন এ সময় মজার ছলেই বললেন আমার মনে হয় এগুলো পড়ে আমার মাঠে নামা উচিত (হাসি)। চুড়িগুলো পড়েই থাকলেন। পরবর্তীতে জ্যোতি হিলিকে একটি ঢাকাইয়া জামদানি উপহার দেন যা দেখে বেশ অবাক হন তিনি হয়তো প্রথম বারই পেলেন এমন কিছু এবং আগ্রহ নিয়েই গ্রহণ করেন অজি অধিনায়ক। আমদানি শাড়ির আদি জন্মস্থান বলা হয় রাজধানী ঢাকাকে। জামদানি বুননের ক্ষেত্রে তৃতীয় একটি সুতা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটি ইউনেস্কো কর্তৃক অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি প্রাপ্ত। এ দেশের ঐতিহ্যের সঙ্গে আমদানি শাড়ি জড়িয়ে আছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ এসে এই শাড়ি সংগ্রহ করেও বলে জ্যোতি জানিয়ে দেন হিলিকে। এ সময় জ্যোতির থেকে দুটি বাংলা শব্দও শিখে নেন হিলি। একটি হলো 'আসসালামু আলাইকুম' ও দ্বিতীয় শব্দটি হল 'ধন্যবাদ'।

ইত্তেফাক/জেডএইচ