মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

পাহাড় কাটার খবরে অভিযানে ট্রাকচাপায় বন কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগ 

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ১৪:০৩

রাতের আঁধারে পাহাড়ের মাটি কেটে পাচারে বাঁধা দেওয়ায় উখিয়ায় বন বিট কর্মকর্তাকে ডাম্পার চাপা দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৩১ মার্চ) ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যার পর গাড়িটি ঘুমধুম হয়ে বান্দরবান পালানোর সময় বিজিবি কর্তৃক জব্দ করা হয়েছে। তবে, পালিয়েছে চালাক ও হেলপাররা।

রবিবার দুপুরে কক্সবাজার বিভাগীয় বন কার্যালয়ে তার প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে পাঠানো হচ্ছে। 

নিহত বন কর্মকর্তার সাজ্জাদুজ্জামান সজল (৩০) মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার মোহাম্মদ শাহজাহানের ছেলে। তিনি কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের উখিয়া রেঞ্জের দোছড়ি বনবিটের বিট কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন। দুবছর আগে বিয়ে করা সাজ্জাদের নয় মাসের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। 

তার সাথে থাকা বনরক্ষী মোহাম্মদ আলীকে (২৭) আহত অবস্থা উদ্ধার করে স্থানীয়রা হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী মুহাম্মদ শফিউল আলম জানান, উখিয়ায় রাতের আঁধারে কোথাও না কোথাও অবৈধ ভাবে পাহাড় কাটা চলে। তাই রেঞ্জের সকল বিট কর্মকর্তারা রাতে নিয়মিত অভিযানে নামেন। প্রতিদিনের মতো রবিবার সেহেরির সময় অভিযান টহলে যান উখিয়া রেঞ্জের দোছড়ি বিট কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান। এসময় খবর পান, এলাকার হরিণ মারা লালুর বরো ঘাটা এলাকা দিয়ে তুতুরবিল গ্রামের চিহ্নিত পাহাড় খেকো ছৈয়দ আলম ওরফে কানা ছৈয়দ পাহাড়ের মাটি ডাম্পারযোগে পাচার করছে। মোটরসাইকেল চালিয়ে সাজ্জাদুজামানরা সেখানে পৌঁছে ডাম্পারটি থামাতে সংকেত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটিভর্তি ডাম্পার গাড়িটি তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয় সজলের। আহত হন সঙ্গে থাকা অন্য বনকর্মী। 

তিনি আরো জানান, তাদের চাপা দেওয়ার পর ডাম্পার গাড়িটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে নাইখ্যংছড়ি হয়ে লামা-বান্দরবান আত্মগোপনে চলে যাচ্ছিল। এসময় বিজিবির সহায়তায় গাড়িটি জব্দ করা হয়।

কক্সবাজার সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা জানান, ঘটনার খবর পেয়েই উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী শফিউল ও উখিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নিহত সাজ্জাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দক্ষিণ বনবিভাগের হিমছড়ি বনবিট কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান শোভন জানান, ময়নাতদন্তের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিভাগীয় বন কার্যালয় মাঠে নিহত সাজ্জাদুজ্জামানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহকর্মী ও শুভার্থীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে পাঠানোর আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে কক্সবাজার আসা নিহতের ভাই ও সহকর্মীরা তার লাশের সঙ্গে সিলেটের মুন্সিগঞ্জে যাচ্ছেন।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হোসাইন বলেন, ‘বন কর্মকর্তা হত্যার খবরে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। হত্যায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।’

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সারোয়ার আলম জানান, ‘বনরক্ষা করতে গিয়ে সাজ্জাদ নিজের জীবন দিয়েছেন। তার নির্মম মৃত্যুতে আমরা একজন দক্ষ ও পরিশ্রমী বনকর্মকর্তাকে হারালাম। ঘাতক ডাম্পার ট্রাক চালক ও তার সহযোগীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি তাদের গ্রেফতারে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

২০২০ সালে ফরেস্টার হিসেবে বন বিভাগে যোগ দেন সাজ্জাদুজ্জামান সজল। দোছড়ি বনবিটে গত বছরের শেষ দিকে যোগ দিয়ে। যোগ দেওয়ার পর হতেই পাহাড় অধ্যুষিত উখিয়ায় পাহাড় ও বন রক্ষায় প্রায় প্রতিরাতেই অভিযান পরিচালনা করে আসছিলেন। গত তিন মাসে দুই ডজনের মতো ডাম্পার জব্দ করে মামলার আওতায় এনে রেঞ্জ অফিসে রেখেছেন তিনি। 

ইত্তেফাক/এসজেড