মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বাঘার পাকা রাস্তায় মাটির ছড়াছড়ি, ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ২০:১৭

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বিভিন্ন পাকা রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ট্রাকে বহন করা মাটি। এই মাটিগুলো আসছে পুকুর খনন থেকে। এ বিষয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেটি মানছে না কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। এ বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নীরব বলে অভিযোগ করেছেন  এলাকার লোকজন। ফলে প্রায়ই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুকুর খননের মাটি বহনের জন্য পাওয়ার টলি, ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পিচঢালা পাকা রাস্তা ব্যবহার করা হয়। আর মাটি বহনকারী এসব যান বেপরোয়া গতিতে যাওয়ার সময় সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে মাটি। এরপর সামান্য বৃষ্টিতে সড়কগুলো কাদায় পরিপূর্ণ হয় ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এ সময় মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা। সেইসঙ্গে পথচারীরাও পথ চলতে গিয়ে অনেক সময় পিছলে পড়ে যান। 

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বাঘা উপজেলার আড়পাড়া, আামোদপুর, বলিহার, বারখাদিয়া, মনিগ্রাম, তুলশিপুর, ছাতারী, বাউসা ও তেথুলিয়ার বিলে এই মুহূর্তে পুকুর খননের হিড়িক পড়ে গেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত চলছে একটানা পুকুর খনন। সরকারিভাবে পুকুর খননে বাধা-নিষেধ থাকলেও এই আইন মানছে না রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা প্রভাব খাটিয়ে একের-পর এক পুকুর খনন করে চলেছে। যা দেখেও দেখছে না স্থানীয় প্রশাসন। এতে করে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে পাকা রাস্তাসহ আবাদি জমি। অপরদিকে তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। 

উপজেলার বলিহার গ্রামের মাইক্রোচালক অমৃত কুমার জানান, বাঘার বিভিন্ন বিলে এখন পুকুর খননের ফলে রাস্তায় মাটির প্রলেপ পড়ে রয়েছে। এর ফলে ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। যদি কেউ জোরে চালানোর চেষ্টা করছে, তখন তিনি দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। 

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, এখানে এই মুহূর্তে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূন্য রয়েছে। যতটুকু খবর রাখি, দিনের বেলায় উপজেলায় কেউ পুকুর খনন করছে না। যারা রাতের আধারে পুকুর খনন করলেও বিলে প্রবেশ করা একটু কঠিন। তার পরেও কিছু জায়গায় অভিযান দেওয়া হয়েছে। তিনি জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

ইত্তেফাক/পিও