শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০
The Daily Ittefaq

অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না ফেসবুক, ইউটিউব

  • জানতে চাওয়া তথ্যে ২০ শতাংশেরও উত্তর দেয় না
  • বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্তে যাচ্ছে সরকার 
  • এদের নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা আমাদের আছে: মে. জেনারেল জিয়া
আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০০

বাংলাদেশে কোনো অফিস না থাকায় ফেসবুক-ইউটিউবের মতো সামাজিক মাধ্যম কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। বাংলাদেশ থেকে কিছু জানতে চাইলে ঠিকমতো উত্তরও দেয় না। তাদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। প্রয়োজনে কিছুদিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও আসতে পারে। ঠিকমতো জবাব না পাওয়ায় গুজব ও অপপ্রচাররোধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে না সরকার। বাংলাদেশের জানতে চাওয়া তথ্যের ২০ শতাংশেরও জবাব দেয় না এই প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারকে বিপাকে পড়তে হয়।  

কেন ফেসবুক-ইউটিউব ঠিকমতো জবাব দেয় না? জানতে চাইলে ন্যাশনাল টেলিকম মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান ইত্তেফাককে বলেন, ‘বাংলাদেশে অফিস না থাকার কারণে তারা অনেক বেশি স্বেচ্ছাচার আচরণ করে। আমাদের জানতে চাওয়া তথ্যের ২০ শতাংশেরও উত্তর তারা দেয় না। অথচ আমাদের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বা ব্যবহারকারীর দেশেও তাদের অফিস আছে। পাকিস্তানেও তাদের অফিস আছে। যে কোনো সময় এটা বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা এনটিএমসির আছে। তাদের যদি এমন স্বেচ্ছাচারিতা চলতে থাকে তাহলে এই ধরনের সিদ্ধান্ত সরকার নিতে পারে।’

সর্বশেষ গত রবিবার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার কমিটিতেও বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তারা যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে যে কোনো সময়ে নির্ধারিত মেয়াদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে ঐ সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে তার আগে এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বারবার অবহিত করারও উদ্যোগ নেবে সরকার।

বৈঠক সূত্র জানায়, গুজব, অপপ্রচার প্রতিরোধ ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে সবাই একমত পোষণ করেন। বৈঠকে আলোচনা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যারা মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। মন্ত্রিসভা কমিটিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে যারা মিথ্যাচার ও অপপ্রচার চালিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তাদের শনাক্ত করার মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান আছে।

জানা গেছে, এনটিএমসি গুজব ও অপপ্রচারের বিষয়গুলো মনিটরিং করে। রাষ্ট্রবিরোধী, মানহানিকর ও জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর কনটেনট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ব্লক বা অপসারণ করার জন্য নিয়মিত বিটিআরসিকে প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী অপপ্রচার, রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংস্থা কাজ করছে। গুজব প্রতিরোধের বিষয়ে বিটিআরসি থেকে জানানো হয়, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে পাওয়া গুজব সংক্রান্ত লিংক ও কনটেনটগুলো অপসারণের কাজ অব্যাহত আছে। এটা চলমান প্রক্রিয়া।

জানতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘যারা সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, আমরা তাদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো দিই। বর্তমানে তারা সেসব অভিযোগ আমলে নিচ্ছেন না। তারা উদাসীনতা দেখাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর কোনো অফিস বাংলাদেশে নেই। গুজব ও সাইবার প্রতিরোধে তাদের কাছে বিভিন্ন সময় সরকার সুপারিশ করে থাকে। কিন্তু তারা সেসব সুপারিশ শুনছে না। এভাবে তো চলতে পারে না। তারা যদি আমাদের কথা না শোনে তাহলে সরকার অ্যাকশনে যাবে। যাতে বিশ্ববাসীর কাছে মনে না হয় বাংলাদেশে মৌলিক অধিকার ব্যাহত হচ্ছে। যদি কখনো সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ হয় সেটার দায় যাতে সরকারের ওপর না পড়ে। তারপর প্রয়োজন হলে কিছু সময়ের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি আমরা আলোচনা করেছি।’

ইত্তেফাক/এমএএম