মানুষের শরীরের অসুস্থতা দূর করে সুস্থতা লাভ করার অন্যতম মাধ্যম হলো ওষুধ, যা খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে রোগ নিরাময়ে। কিন্তু এই ওষুধের অনেক ক্ষতিকারক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। ওষুধের সঠিক ব্যবহারে ফল ভালো পাওয়া যায় কিন্তু অপব্যবহারে মানুষের শরীরকে ভয়ংকর ক্ষতির মুখে ফেলে দেয়, এমনকি মাঝেমধ্যে তা জীবননাশের কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে। বর্তমানে জেনে না জেনে ঠিক এই ভুলই করছে অধিকাংশ মানুষ।
সারা বাংলাদেশ জুড়েই চলছে ওষুধের ভয়ংকর অপব্যবহার, যা ক্রমেই বেড়ে চলছে। ছোটখাটো অসুখ যেমন জ্বর, ঠান্ডা, কাশি, যে কোনো ব্যথা অথবা এমন কিছু হলেই আমরা ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়াই নিজেদের বুদ্ধিতে নিয়মিত একই রকমের কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবন করে থাকি, এবং এটা আমরা আমাদের আশেপাশের ছোট ছেলেমেয়েদের ওপরও প্রয়োগ করি। ছোটখাটো রোগ তখন সেরে যায়, যার ফলে পরবর্তী সময়েও আমরা একই কাজ করে থাকি।
নিয়মিত এই ছোটখাটো অসুখ সারিয়ে তুলতে আমরা ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া নানা জাতীয় ঔষধ দ্রব্য, বিশেষ করে বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ ব্যবহার করি। নিয়মিত এমন ‘পাওয়ারফুল’ ওষুধ ব্যবহারের কারণে কিছুদিন বাদে নরমাল অথবা কম পাওয়ারফুল ওষুধ আর আমাদের শরীরে কাজ করে না। এরকম বিভিন্ন রোগের জন্য ফার্মেসি থেকে ক্রয় করা হয় বিভিন্ন ওষুধ যার জন্য ব্যবহার রোগীর বয়সও হিসাব করা হয় না। আর এভাবে কিছুদিন ব্যবহারের ফলে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জড়ো হয়ে আস্তে আস্তে শরীরে বাসা বাঁধে ভয়ংকর রোগ।
এরপর দিন দিন অসুস্থতা বৃদ্ধি পাওয়ার পর একসময় আমরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হই কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে যায়। তখন ডাক্তাররা উপায় না পেয়ে এমন সব চিকিত্সার পরামর্শ দেন, যার জন্য দরকার হয় প্রচুর অর্থ এবং দিনশেষে ভোগান্তির শেষ থাকে না। অর এর জন্য দায়ী আমরা নিজেরাই। সুতরাং যে কোনো ধরনের অসুস্থতায় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
যে কোনো ধরনের ছোটখাটো অসুস্থতা দেখা দিলেই ওষুধ খাওয়ার কারণে আমাদের শরীরের স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। আমাদের সচেতনতাই পারে আমাদের জীবনকে আরো প্রফুল্ল করতে। আমাদের শরীরে যেন কোনো রোগ বাসা বাঁধতে না পারে তার জন্য আগে থেকেই নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া উচিত।
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
