শনিবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৪, ৩০ চৈত্র ১৪৩০
The Daily Ittefaq

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে এগিয়ে নারী শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০০

নারীরা প্রতিনিয়ত এগিয়ে যাওয়ার গল্প তৈরি করছেন। একসময়ের ঘরে বসে থাকা নারী এখন আর ঘরে বসে নেই। সবখানে প্রমাণ দিচ্ছেন শক্তি, সামর্থ্য ও মেধার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতেও সেই প্রমাণ মিলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির তথ্যে দেখা যায়, ক্রমান্বয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিতে বাড়ছে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ। সর্বশেষ ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে  ভর্তি হওয়া ৬ হাজার ৬০ শিক্ষার্থীর মধ্যে নারী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ১০৫ জন। অর্থাৎ ভর্তি হওয়া মোট শিক্ষার্থীর ৫১.২৩ শতাংশই নারী। অথচ এক যুগ আগে ২০১০-১১ সেশনে নারীদের ভর্তির এই হার ছিল ৩৬.৯১ শতাংশ। 

সমাজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পেরেছে। এছাড়াও অভিভাবকদের মধ্যেও একটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে নারীদের উচ্চশিক্ষার বিষয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিগত বছরগুলোর ভর্তির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১০-১১ সেশনে ভর্তি হওয়া ৫ হাজার ৫৪৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে  ২ হাজার ৪৮ জন নারী; ২০১১-১২ সেশনে ৬ হাজার ১২ জনের মধ্যে ২ হাজার ৯৭ জন নারী; ২০১২-১৩ সেশনে ৫ হাজার ৮০২ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৯৮ জন নারী; ২০১৩-১৪ সেশনে ৬ হাজার ২৩০ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৬৯ জন নারী; ২০১৪-১৫ সেশনে ৬ হাজার ৪৩৬ জনের মধ্যে ২ হাজার ২৮১ জন নারী; ২০১৫-১৬ সেশনে ৭ হাজার ১৩৭ জনের মধ্যে ২ হাজার ৯৩৪ জন নারী; ২০১৬-১৭ সেশনে ৭ হাজার ২৪৭ জনের মধ্যে ২ হাজার ৭২১ জন নারী; ২০১৭-১৮ সেশনে ৭ হাজার ৩৬৫ জনের মধ্যে ২ হাজার ৬৭৩ জন নারী; ২০১৮-১৯ সেশনে ৭ হাজার ৪১৩ জনের মধ্যে ২ হাজার ৮২৫ জন নারী ; ২০১৯-২০ সেশনে ৭ হাজার ৪৩১ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৬০৫ জন নারী; ২০২০-২১ সেশনে ৭ হাজার ৫৩৫ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৪১৪ জন নারী; ২০২১-২২ সেশনে ৬ হাজার ২০৪ জনের মধ্যে ২ হাজার ৯২১ জন নারী; ২০২২-২৩ সেশনে ৬ হাজার ৬০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ হাজার ১০৫ জন নারী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।

এই বিষয়ে সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, সমাজকাঠামোর কারণে দীর্ঘ সময় ধরে নারীদের উন্নয়ন, শিক্ষায় অংশগ্রহণ ও কর্মক্ষেত্রে সম্পৃক্ততার প্রেক্ষাপটে নারীরা বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। নারীদের শিক্ষার ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে নারীশিক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে পেরেছে। এছাড়াও অভিভাবকদের মধ্যেও একটা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার সিদ্ধান্ত নারীদের উচ্চ শিক্ষায় অংশগ্রহণে ভূমিকা রেখেছে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হক বলেন, বর্তমানে প্রতিটি ক্ষেত্রেই মেয়েদের অগ্রগতি লক্ষণীয়। এটি নারীদের জন্য সরকারি নানা উদ্যোগের ফল। সরকার কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে নারীদের জন্য নানা স্কোপ তৈরি করেছে। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় নারী নীতি প্রণয়ন করা হয়। যেখানে নারীদের অগ্রায়ন, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। এই নীতির প্রতিফলনই আমরা এখন দেখছি। 

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফাওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীরা উচ্চশিক্ষায় আসছে তা ঠিক। কিন্তু উচ্চশিক্ষা শেষে পেশাগত জীবনে নারীরা  শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটা কাজে লাগাতে পারছে, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, গত বছর ছেলেদের তুলনায় নারী শিক্ষার্থীরা বেশি ভর্তি হয়েছে। আমরা আশা করছি, এই বছর তা আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধান জরুরি। 

ইত্তেফাক/এমএএম