ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কটি অপেক্ষাকৃত সরু হওয়ায় ও অদক্ষ চালকের কারণে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই পঙ্গুত্ববরণ করতে হচ্ছে যাত্রীদের। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের ভর্তি করতে হচ্ছে। এছাড়া দুর্ঘটনা স্থলে ও চিকিত্সাধীন অবস্থায়ও ঘটছে প্রাণহানি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা আগের চেয়ে কমপক্ষে পাঁচ গুণ বেড়েছে। তবে মহাসড়ক রয়ে গেছে সেই আগের সরু। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভুরঘাটা থেকে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৩০টি স্থানে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতনরা জানান, উল্লেখযোগ্য ভাবে ভুরঘাটা, ইল্লা, বার্থী, তারাকুপি, কটকস্থল, সাউদেরখাল পাড়, নীলখোলা, টরকি, গয়নাহাট, গৌরনদী, মাহিলারা, বাটাজোর, সানুহার, জয়শ্রী, ইচলাদী, শিকারপুর দোয়ারিকা টোল প্লাজা, নতুনহাট রহমতপুর ব্রিজ অন্যতম। এসব স্থানের মহাসড়কটি সরু হওয়ার পাশাপাশি অদক্ষ চালক, দূরপাল্লার পরিবহনের সঙ্গে থ্রি-হুইলারের পাল্লা দেওয়ায় ঘটছে দুর্ঘটনা। আসন্ন ঈদ যাত্রায় এই মহাসড়কে দুর্ঘটনা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চালক ও শ্রমিকরা বলছে অবৈধ যানবাহন আর অদক্ষ চালকের কারণে ঘটছে এসব দুর্ঘটনা। অন্যদিকে বিআরটিএ সূত্র বলছে, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে হচ্ছে মহাসড়কে দুর্ঘটনা। আর পুলিশ বলছে অধিক গতি, বেপরোয়া চালনাই হচ্ছে এ সড়কে দুর্ঘটনার কারণ। সড়ক প্রশস্তকরণসহ কিছু উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ।
বরিশাল-ঢাকা রুটের বাসচালক জালাল আহমেদ জানান, পদ্মা সেতু চালুর উদ্বোধনের পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নছিমন, টমটম, করিমন, থ্রি-হুইলারের মতো অবৈধ যানবাহনের। যার ফলে দ্রুতগামী যানবাহনের সামনে এগুলো থাকলে তাহলে বিপরীত পাশের সড়ক খালি না থাকলে দীর্ঘসময়েও ওভারটেক করা সম্ভব হয় না। এক্ষেত্রে ওভারটেক করতে হয় চালকের নিজের ঝুঁকিতে। হিসাবে কোনো গরমিল হলেই ঘটে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
বিআরটিএ বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, মূলত সরু রাস্তা হওয়ায় এ মহাসড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। রাস্তা প্রশস্ত হলে দুর্ঘটনা কমবে বলে জানান তিনি। মোবাইল কোর্ট বসিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করা এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে বিআরটিএ।
হাইওয়ে মাদারীপুর জোনের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শাহিনুর আলম খান বলেন, দুর্ঘটনার পেছনের মূল কারণ হিসেবে আমরা যেটি দেখছি তা হচ্ছে অধিক গতি। এজন্য চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণে রেখে যানবাহন চালাতে হবে। এ জোনের আওতায় সড়ক আইনে চেকপোস্ট বসিয়ে লাইসেন্স পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে অধিক গতি, ফিটনেস না থাকা, কালো ধোঁয়া, কাগজপত্র না থাকাসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা হয়েছে। তবে চালকরা সচেতন না হলে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না।
