‘টি-টোয়েন্টি ওয়ানডেতে মন্দ করেননি, হতাশ টেস্টে’

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ১৩:২৮

বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিত হওয়া বিপিএলে দেশি ক্রিকেটারদের দারুণ ছন্দে দেখা গিয়েছিল। সে সময় ধারণা করা হচ্ছিল মার্চ মাসে পূর্ণাঙ্গ সফরে আসতে যাওয়া শ্রীলঙ্কাকে বেশ কঠিন পরীক্ষাই দিতে হবে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নেমে। তবে তেমন কিছুই লক্ষ্য করা যায়নি। লঙ্কানদের বিপক্ষে নেমেই তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে হেরেছে ২-১ ব্যবধানে। যদিও পরবর্তীকালে ওয়ানডে সিরিজে একই ব্যবধানে আবার জিতেছেও। 

কিন্তু সব থেকে হতাশার বিষয় ছিল দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে। এই সিরিজে স্বাগতিকরা যেন হোম কন্ডিশনের বিন্দু পরিমাণ সুযোগও নিতে পারেননি। কোনো রকম লড়াই ছাড়াই হেরেছেন। আর এমন হতাশার পারফরম্যান্স দেখে গতকাল গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ দলের এক হাত নিয়েছেন বিসিবি প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।

শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে লিপু সবশেষ লঙ্কানদের বিপক্ষে সফর নিয়ে গণমাধ্যমে বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে ক্রিকেটটা খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক সিরিজ হয়েছে। সেখানে সমতা হওয়া আবার পিছিয়ে যাওয়া কিংবা এগিয়ে আসা সেরকম একটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েই তৃতীয় ম্যাচটা হয়েছে যা বেশ আকর্ষণীয় ছিল এবং আমার মনে হয় যে দল মন্দ করেনি। তবে অবশ্যই টেস্ট ম্যাচ ক্রিকেটে আমাদের ফলাফল নিঃসন্দেহে বলে দেয় যে আমরা একটু হতাশ আমাদের দলের পারফরম্যান্স নিয়ে। আমাদের আশা ছিল যে দল আরো ভালো রেজাল্ট করবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।’

এ সময় সিরিজ এই সিরিজ দিয়ে দলের দুর্বল জায়গা গুলো সামনে এসেছে জানিয়ে বলেন, ‘ফলাফল যে আমাদের পক্ষেই আসতে হবে এমন কোনো কথা ছিল না, আমরা আগেই বলেছি যে ভালো স্পোর্টিং উইকেটে টেস্ট ম্যাচ খেলার চেষ্টা করেছি। কারণ আমাদের দেশের পাশাপাশি দেশের বাইরে গিয়েও অনেক টেস্ট ম্যাচ খেলতে হবে তো সেটার জন্য নিজেদের সক্ষমতা, নিজেদের দুর্বলতা সেটাকে বিচার করার জন্যই অনেকটা বিসিবি এই ভেন্যু এবং উইকেটের ব্যবস্থা করেছে। আমার মনে হয় যে এতে হয়ত কিছুটা আশাহত কিন্তু এতে আমাদের দুর্বলতম জায়গাগুলো ফুটে উঠেছে এবং সেগুলো নিয়ে নিশ্চিত আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট কাজ করবেন।’

‘বিসিবির তরফ থেকে যেই যেই জায়গায় মেরামতের সুযোগ আছে কিংবা উন্নয়নের সুযোগ আছে সেটা খেলোয়াড়দের তরফ থেকে কিছু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট নিয়ে আলোকপাত করেছেন পাশাপাশি প্রস্তুতির বিষয়টাও এখানে চলে আসে। তো সেই ক্ষেত্রে যতটুকু সম্ভব...ক্যালেন্ডার আপনি দেখলে বুঝতে পারবেন যে একেকটা ফরম্যাটের আগে যথেষ্ট সময় থাকে না প্রস্তুতির জন্য আগের মতো। তবে মাঝখানে পাকিস্তান সফরের আগে আমার মনে হয় যে একটা রিকোভারি টাইমও থাকবে খেলোয়াড়দের জন্য বিশ্বকাপের পরে পাশাপাশি প্রস্তুতির জন্যও কিংবা আমাদের যে ঘাটতি গুলো চিহ্নিত করেছেন কোচরা। সেসব পূরণ করতে কাজ করতে পারবেন কোচরা।’

সবশেষ লঙ্কানদের বিপক্ষে দুই টেস্টেই সফরকারী ব্যাটাররা সুবিধা করতে পারছিল। সিলেটে অনুষ্ঠিত হওয়া টেস্টে তো তাদের দুই ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরিও দেখা গিয়েছিল। তবে একই মাঠে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিলো হতশ্রী। স্বাগতিক হয়েও কোনো রকম লড়াই করতে পারেননি টাইগাররা। এছাড়া মাঠে নেমে যেভাবে নিজেদের উইকেটগুলো তারা বিলিয়ে দিয়ে এসেছে তা ছিল বেশ দৃষ্টিকটুও এগুলো নিয়ে আলোচনা সমালোচনাও হয়েছে বেশ। 

এ প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘এটা সত্য যে আমাদের আউট হওয়ার ধরণগুলো ভালো ছিল না ব্যাটসম্যানদের। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমি বলব যে, উইকেটে থিতু হওয়ার আগেই অনেকে আউট হয়ে গেছেন। সেই বলগুলো হয়তো তারা চাইলে সেই বলগুলো ছেড়ে দিতে পারতেন তাদের অফস্ট্যাম্প কোথায় আছে সেটা যদি তারা ঠিকভাবে জানতে পারতেন তাহলে হয়তো তারা সেই বলগুলো খেলতে যেতেন না। প্রথম বলেই অনেকে গিয়ে চালিয়ে দিয়েছেন। সেটা হয়তো মোটেও আশা করা হয়নি। সেক্ষেত্রে আমরা ব্যাটসম্যানদের টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করার অনেক সুযোগ দেখছি।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ