সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বিদায়ি সপ্তাহে ডিএসইতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে

লেনদেনের শীর্ষে ওষুধ ও রসায়ন বস্ত্র এবং প্রকৌশল খাত

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০০

বিদায়ি সপ্তাহে দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সূচকে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ডিএসইর সার্বিক সূচক নিম্নমুখী থাকার পর বিদায়ি সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, গত কিছুদিন ধরে টানা দরপতন হচ্ছে শেয়ার বাজারে। একইভাবে বিদায়ি সপ্তাহের শুরুতে দরপতন হলেও শেষদিকে সূচকের উত্থানে লেনদেন হয়েছে। সাপ্তাহিক বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া মোট ৪১২টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৮৮টির, কমেছে ১৬৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৯টির দর। এছাড়া লেনদেন হয়নি ১৭টি কোম্পানির। বেশির ভাগ কোম্পানির দর বাড়ায় সূচকের উত্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ডিএসই'র প্রধান মূল্যসূচক ডিএসই-এক্স বেড়েছে ১৭ দশমিক ৭৯ পয়েন্ট বা দশমিক ৩১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১৬৩ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহে বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট বা দশমিক ১৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ৪৬ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ২৭ শতাংশ। আর ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক গত সপ্তাহে বেড়েছে ১১ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৫ শতাংশ। বিদায়ি সপ্তাহে ডিএসইতে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে বীকন ফার্মা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, বেক্সিমকো ফার্মা, গ্রামীণফোন ও অলিম্পিকের শেয়ার।

ডিএসই তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে মূল্যসূচক বাড়লেও লেনদেনের গতি কিছুটা কমেছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৪৩৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৪৯৩ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ৫৯ কোটি ৯ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯০৮ কোটি টাকায়। যা গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৭৯ হাজার ২২৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ৬৭৯ কোটি টাকা। বিদায়ি সপ্তাহে খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৯ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ দখলে নিয়েছে বস্ত্র খাত। ১০ দশমিক ৩ শতাংশ লেনদেনের

ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রকৌশল খাত। মোট লেনদেনের ১০ দশমিক ২ শতাংশের ভিত্তিতে চতুর্থ অবস্থানে ছিল খাদ্য খাত। আর সিরামিক খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গত সপ্তাহে ডিএসইতে খাতের ইতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল বস্ত্র, সিরামিক ও খাদ্য খাত। আর নেতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল জীবন বীমা, ভ্রমণ ও সিমেন্ট খাত।

অন্যবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৬১৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৬ হাজার ৫৫৩ পয়েন্টে। গত সপ্তাহে এই বাজারে লেনদেনকৃত মোট ৩১০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ১৪৮টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টির দর। এদিকে গত সপ্তাহে সিএসইতে সার্বিক সূচক বাড়লেও লেনদেন কমেছে। সপ্তাহ জুড়ে এই বাজারে লেনদেন হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৯৭ কোটি টাকা।

 

ইত্তেফাক/এমএএম