সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

এআইউবিতে ওয়েবিনার

সাংবাদিকতায় এআই: নৈতিকতার সঙ্গে সতর্ক থাকতে হবে সম্ভাব্য পরিণতি নিয়েও

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৩:৩১

বর্তমানে সাংবাদিকতায় কন্টেন্ট তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ, তথ্য অনুসন্ধান, নিউজ পার্সনালাইজেশনের ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। এআই কাজগুলোকে সহজ করে দিলেও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে ফেক কন্টেন্ট, মিস-ইনফরমেশান, ডিস-ইনফরমেশান ও ডিপফেকের মতো ক্ষতিকর কন্টেন্টের বিষয়গুলো। তাই এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও হিউম্যান সুপারভিশনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে এআই নির্ভরতার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও।

সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইউবি) মিডিয়া অ্যান্ড ম্যাস কমিউনিকেশন বিভাগে আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা এমনটাই জানান। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ওয়েবিনারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কী ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়।

ওয়েবিনারে ছিলেন ভারতের বৃহৎ নিউজ এজেন্সি প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার ডিজিটাল সার্ভিসেস, সোশ্যাল মিডিয়া, মাল্টিমিডিয়া ও ফ্যাক্ট চেকিং-এর প্রধান প্রত্যুষ রঞ্জন, এএফপি বাংলাদেশের ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও মিডিয়া প্রশিক্ষক আঙ্গুর নাহার মন্টি।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এআইইউবি'র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আবদুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম এন্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রফেসর এবং এমএমসি বিভাগের উপদেষ্টা ড. এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া। এমএমসি বিভাগের সমন্বয়ক আফরোজা সুলতানার অভ্যর্থনায় অনুষ্ঠান শুরু হয়।

ড. মো. আবদুর রহমান সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তিনি নৈতিকতা ও হিউম্যান সুপারভিশনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি এই প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্টের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন। এ জন্য প্রশিক্ষণ এবং নির্দেশিকা প্রদানে একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার ওপর জোর দেন।

অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং সেই সঙ্গে এআই নির্ভরতার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, গ্লোবাল সাউথের সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির প্রভাব পড়ছে, কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই অঞ্চলে কোনো ব্যবস্থা নেই।

প্রত্যুষ রঞ্জন এআই এই মুহূর্তে নিউজরুমে কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে, কী কী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে - তার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কন্টেন্ট তৈরি, তথ্য বিশ্লেষণ, তথ্য অনুসন্ধান, নিউজ পার্সনালাইজেশন ইত্যাদি ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা বর্তমানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তবে এআই বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে, যেমন ফেক কন্টেন্ট, মিস-ইনফরমেশান, ডিস-ইনফরমেশান- বিশেষ করে ডিপফেকের মতো ক্ষতিকর কন্টেন্ট।

এএফপি বাংলাদেশের ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম বাংলাদেশের নিউজরুমে কতটা এআই ব্যবহৃত হচ্ছে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, এখানে এআই এখনো সাংবাদিকরা নিউজের কাজে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা শিখছে। কিছু ক্ষেত্র, যেমন ট্রান্সশ্লেশান, ট্রান্সক্রিপশান, ইমেজ তৈরির কাজে ব্যবহৃত হলেও এআই-এর পরিপূর্ণ ব্যবহার এখানকার নিউজরুমে সম্ভব নয়। তার কারণ হিসেবে তিনি তথ্য স্বল্পতা, তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে মিডিয়া হাউজগুলোর অনাগ্রহ এবং পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোর অভাবের বিষয় উল্লেখ করেন।

সাংবাদিক আঙ্গুর নাহার মন্টি ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তি মোকাবেলা করার জন্য সাংবাদিকদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষতা উন্নত করার ওপর জোর দেন। তিনি ভবিষ্যত সাংবাদিকদের নৈতিক এবং দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একাডেমিয়ার ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন।

এমএমসি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাসরিন আক্তার ওয়েবিনার পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন- এআইউবির বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

ইত্তেফাক/এসকে