বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নির্বিঘ্নে ঢাকা ছাড়ছে ঘরমুখী মানুষ, চাপ কম বাস টার্মিনালগুলোতে

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৮:০২

পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখ মিলিয়ে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার একটু বেশি ছুটি পেয়েছেন চাকরিজীবীরা। ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে কয়েক দিন আগেই। ভিড় এড়াতে অনেকে আগেই পরিবারের সদস্যদের গ্রামে পাঠিয়েছেন। তবে ছুটির অপেক্ষায় রাজধানীতে অবস্থান করছেন চাকরিজীবীরা।

কয়েকদিন আগে থেকেই যাত্রা শুরু হওয়ায় রাজধানীর মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও  সায়দাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম। পাশাপাশি অনেকটা ভোগান্তি ছাড়াই ঈদ যাত্রা করতে পারছেন যাত্রীরা।

রোববার (৭ এপ্রিল) রাজধানী মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ কিছুটা যাত্রীর চাপ বেড়েছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় তা অনেকটাই কম। প্রায় নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যাচ্ছে বাসগুলো। নেওয়া হচ্ছে না বাড়তি ভাড়াও। ফলে এই টার্মিনাল থেকে ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ির পথ ধরছেন যাত্রীরা। এই বাস টার্মিনালে সবচেয়ে বেশি যাত্রী দেখা যায় ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে এনা ট্রান্সপোর্টের কাউন্টারে। রাস্তায় যানজটের কারণে তাদের বাসের সংকট রয়েছে। তবে কিছুক্ষণ পর পরই বাস আসছে এবং যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে।

পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ময়মনসিংহ যাচ্ছেন আশিক রহমান। তিনি বলেন, ‘কাউন্টারে তেমন ভিড় নেই। এবার লম্বা ছুটি পাওয়ায় ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি যেতে পারছি। কোনো বাড়তি ভাড়াও দিতে হয়নি।’ 

ঢাকা-বগুড়া-নওগাঁ রুটে যাত্রীসেবা দেওয়া একতা পরিবহনের বুকিং মাস্টার বিপ্লব বলেন, ‘ঈদ যেমন যাত্রী চাপ থাকার কথা তা এবার মহাখালীতে নেই। লম্বা ছুটির কারণে মানুষ ধীরে যাতায়াত করছে। এখনো সবার অফিস বন্ধ হয়নি। সরকারি ছুটি শুরু হলে তখন যাত্রী বাড়বে।’

রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে ঈদ যাত্রায় এখনও তেমন যাত্রীর চাপ নেই। কাউন্টারগুলো অনেকটাই ফাঁকা। তবে আসন পূর্ণ করেই ছাড়ছে বেশিরভাগ বাস। এদিকে ৫০-১০০ টাকা বেশি ভাড়া রাখার অভিযোগ যাত্রীদের। তবে কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তারা চার্ট অনুযায়ী বাস ভাড়া রাখছেন। বাস টার্মিনালে ভোক্তা অধিকার অভিযান চালালেও কাউকে জরিমানা করা হয়নি।

চুয়াডাঙ্গাগামী যাত্রী আনিসুর রহমান বলেন, ‘টার্মিনালে এসে টিকিট কেটেছি। কোনো ভোগান্তি পোহাতে হয়নি। নির্ধারিত সময়েই বাস আসবে বলে কাউন্টার থেকে জানিয়েছে। এখনো যাত্রীর চাপ নেই। আশা করছি কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়া বাড়িতে ফিরতে পারব। 

গাবতলী সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার সজীব জানান, ঢাকা থেকে খুলনা পর্যন্ত তাদের ৬টা বাস যায়। দুপুর পর্যন্ত ৩টা বাস গেছে। কোনো সিট খালি যায়নি। রাস্তায় কোনো সমস্যা নেই, নির্বিঘ্নে যাত্রীরা যেতে পারছে।

মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের মতো সায়দাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের যাত্রী সঙ্কটে ভুগছে সায়দাবাদ বাস টার্মিনালের বিভিন্ন পরিবহন।

পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, এবার পর্যাপ্ত পরিবহন থাকলেও যাত্রী তেমন নেই। দীর্ঘ ছুটি হওয়ার কারণে, ধাপে ধাপে বাড়ি যাচ্ছেন অনেকেই। তাই এবার চাপ কম। যানবাহনের চাপ না থাকায় রোববার পর্যন্ত ঈদযাত্রায় মহাসড়কেও ভোগান্তি কম। তাই এখন যারা যাচ্ছেন, তারা বেশ স্বস্তিতেই বাড়ি যেতে পারছেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার

জ্বালানি তেলের মূল্য কমার পর দূরপাল্লার বাসে নতুন ভাড়া নির্ধারণের পরও যেসব কোম্পানি কাউন্টারে এখনো তালিকা প্রকাশ করেনি তাদেরকে সতর্ক করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার। তিনি বলেন, কোনো কোম্পানি বাস যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নিলে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হবে। আজ রোববার সায়দাবাদ টার্মিনাল পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান।

এদিকে, ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এবং সায়দাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), র‌্যাব ও ডিএমপির সদস্যরা কাজ করছে। পাশাপাশি সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিও সচেষ্ট রয়েছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার আলেখারচরে ঈদযাত্রার সার্বিক অবস্থা রোববার দুপুরে পরিদর্শন করে হাইওয়ে পুলিশ।

ঈদযাত্রায় কড়া নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, ‘বিগত যেকোনো বছরের চেয়ে এবারের ঈদ যাত্রা অনেক বেশী নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে, ঈদের দিন ও ঈদের পরে, এই তিন স্তরের পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। এছাড়াও আমরা প্রযুক্তিগতভাবেও এবার সড়ক পরিদর্শন করছি। ড্রোনের সাহায্যে সড়কে নজরদারি করছি।’

ইত্তেফাক/এনএ/এএএম