স্বাস্থ‌্য ঝুঁকিতে উত্তরাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষ 

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ১২:৫৭

ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধ‌ু সেতু মহাসড়‌কে প্রচন্ড ধুলাবা‌লির কার‌ণে যাত্রী ও চালক‌দের চরম দু‌র্ভোগ পোহা‌তে হ‌চ্ছে। ধুলায় আক্রান্ত বে‌শি হ‌চ্ছে শিশুরা। 

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বেলা ১০টার দি‌কে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধ‌ু সেতু মহাসড়‌কের কা‌লিহাতী উপ‌জেলার জোকারচর এলাকা, সল্লা, সেত‌ুপূর্ব রেল‌স্টেশন, হা‌তিয়া, ভাবলা ও এলেঙ্গাতে গা‌ড়িগু‌লো সড়‌কের বাইরে দি‌য়ে চলাচল করায় সেখান ধুলাবা‌লি বাতা‌সে পু‌রো এলাকায় অন্ধকার হ‌য়ে যা‌চ্ছে। কোন যাত্রীর মু‌খে মাস্ক বা ধুলা থে‌কে বাঁচ‌তে কোন ব‌্যবস্থা নেই যাত্রী‌দের। এতে কোন যাত্রী ধুলার কার‌ণে মু‌খে কাপড় বেঁধে রেখে‌ছেন। ‌কেউ আবার মাস্ক ছাড়াই যা‌চ্ছেন। 

দীর্ঘ সময় ধ‌রে যাত্রী ও চালক‌রা ধুলার নিশ্বাস নেওয়ার কার‌ণে বি‌ভিন্ন ধর‌নের জ‌টিল রোগ হওয়ার সম্ভবনা র‌য়ে‌ছে ব‌লে বি‌শেষজ্ঞ চি‌কিৎসকরা বল‌ছেন।

এদি‌কে মহাসড়‌কে ধীরগ‌তির কার‌ণে যাত্রী ও চালক‌দের চরম ভোগা‌ন্তি পোহা‌তে হ‌চ্ছে। মহাস‌ড়‌কের জোকারচর এলাকায় কথা হয় খোলাট্রাক‌যো‌গে প‌রিবার নি‌য়ে যাওয়া রিয়া‌জের সাথে। 

রিয়াজ জানান, বাস না পে‌য়ে খোলা ট্রা‌কে বা‌ড়ি যা‌চ্ছি প‌রিবা‌রের সা‌থে ঈদ কর‌তে। কিন্তু মহাসড়‌কে প্রচন্ড ধুলা। গা‌ড়িগু‌লো মেইন সড়ক দি‌য়ে না গি‌য়ে আগে যাওয়ার প্রতি‌যো‌গিতার জন‌্য সড়‌কের বাইরে দি‌য়ে যা‌চ্ছে। এতে সেখানকার ধুলা বাতা‌সে ছ‌ড়ি‌য়ে পড়‌ছে। কা‌রোর মু‌খে মাস্ক নেই। অনেক সময় কাপড় দি‌য়ে মুখ ঢাক‌তে হয়। 

গা‌র্মেন্টস কর্মী মু‌ন্নি খাতুন জানান, ভাব‌তেই পা‌রি‌নি সড়‌কে এতে ধুলা হ‌বে। বড়‌দের তেমন ক্ষতি না হ‌লেও শিশুরা কষ্ট কর‌ছে ধুলায়। 

গা‌ড়ির চালকরা জানান, সড়কের ম‌ধ্যে দি‌য়ে গা‌ড়িগু‌লো চলাচল কর‌লে ধুলা হ‌তো না সড়‌কে। কিন্তু আগে যাওয়ার প্রতি‌যো‌গিতায় এবং সম‌য়ের ম‌ধ্যে গন্ত‌ব্যে যে‌তে চালকরা সড়‌কের বাইরে দি‌য়ে গা‌ড়ি নেওয়ায় ধুলার সৃষ্টি হ‌চ্ছে। 

মহাসড়‌কে দা‌য়িত্বরত পু‌লিশ সদস‌্যরা জানান, মাস্ক থাক‌লেও কাজ হয় না। ধুলা ভেতর দি‌য়েই না‌কে প্রবেশ ক‌রে। মহাস‌ড়‌কে ডিউটি কর‌লে ধুলা খে‌তেই হ‌বে। 

টাঙ্গাইলে হৃদ‌রোগ বি‌শেষজ্ঞ চি‌কিৎসক ডা. রা‌জিব পাল চৌধুরী ব‌লেন, বা‌ড়ি ফেরা মানুষজনরা যারা খোলা ট্রাক বা পিকআপযো‌গে গন্ত‌ব্যে যা‌চ্ছেন তারা মহাসড়‌কের ধুলার নিঃশ্বাসের কার‌ণে শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগ‌তে পা‌রেন। এছাড়া যা‌দের অ্যাজমার সমস‌্যা র‌য়ে‌ছে তা‌দের বে‌শি ক্ষ‌তি হওয়ার সম্ভবনা র‌য়ে‌ছে। বি‌শেষ ক‌রে শিশুরা ঠান্ডাজ‌নিত রো‌গে আক্রান্ত হ‌তে পা‌রে। ধূলিকণা শ্বাসনালীতে ঢুকে ফুসফুসের ক্ষতি করে। এ ছাড়া চোখ জ্বালাপোড়া, হাঁপানি, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, যক্ষ্মা ও ক্যানসারের মতো রোগ হতে পারে।

ইত্তেফাক/এআই