বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ইরান ইসরায়েল যুদ্ধ

ইরানের হামলা আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য মারাত্মক হুমকি: ইসরায়েল

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১৩:৩১

প্রায় শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে। এই প্রথম তেহরান সরাসরি ইরায়েলের ভূখণ্ডে হামলা চালালো। এর পরিপেক্ষিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে লেখা একটি চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) যেন সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

শনিবার ইসরায়েলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ জানিয়ে পরিষদের প্রেসিডেন্ট ভ্যানেসা ফ্রেজিয়ারকে চিঠি দেয় ইসরায়েল।

রোববার বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল তাদের চিঠিতে লিখেছে যে ইরানের এই হামলা ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি’।

গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইয়েমেনে হুতিদের সমর্থনের মাধ্যমে ইরান আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি লঙ্ঘন করেছে এবং দেশটি বছর ধরে অস্থিতিশীলতার স্থপতি বলে অভিযোগ করা হয়েছে ইসরায়েলের চিঠিতে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই হামলা ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব, আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট ভ্যানেসা ফ্রেজিয়ারকে লেখা এক চিঠিতে ইরান বলেছে, তারা কেবল নিজেদের রক্ষা করেছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত আত্মরক্ষার অধিকার এবং ইসরায়েলের পুনরাবৃত্তিমূলক সামরিক আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান এ কাজ করেছে।

ইসরায়েলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছেন নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট।

 ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে কয়েক ডজন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তারা। ‘ট্রু প্রোমিজ’ নামে অভিযানের আওতায় এসব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরায়েলের অপরাধের শাস্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও ইরানের এই বাহিনী উল্লেখ করেছে।

১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা করে ইসরায়েল। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৭ জন সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে আইআরজিসির বিদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইউনিট কুদস ফোর্সের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা জাহেদিও রয়েছেন। তিনি সিরিয়া ও লেবাননে কুদস ফোর্সের কার্যক্রম পরিচালনার নেতৃত্বে ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের বদলা নিতে ইসরায়েলে হামলা চালানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। 

ইত্তেফাক/এনএ