সাহিত্য একাডেমির আয়োজনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসব শুরু হয়েছে। রবিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্থানীয় শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন।
গণপূর্ত মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও বংশ পরিচয় যাই হোক না কেন, সকলে মিলে বাংলা নববর্ষ পালন করে। সার্বজনীনতা সত্বেও আমাদের মধ্যে এক ধরনের মানুষ আছে, যাদেরকে মানুষ বলাও শোভা পায় না। এরা এখনো পাকিস্তানের মুণ্ড ঘাড়ে চেপে আছে। এরা মানুষের মাঝে ধর্মান্ধতা ছড়িয়ে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। কতভাবে যে আপনাকে বিভ্রান্তের চেষ্টা করবে। অথচ দেখেন আজকে এই আনন্দ উৎসব পালন করার জন্য এত মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে। তারপরও নববর্ষ উদযাপনের বিরুদ্ধে কিছু দুষ্ট প্রকৃতির লোক অপপ্রচার করে।
তিনি বলেন, আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীরও একটি দিবস আছে তা হলো নৌকাবাইচ। এই নৌকাবাইচও সার্বজনীন। নৌকাবাইচেরও বিরোধিতা করছে ধর্মান্ধরা।
গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, যারা বৈশাখী উৎসবের বিরোধিতা করে, যারা নববর্ষ পালনের বিরোধিতা করে, যারা শহিদ মিনারে যাওয়ার বিরোধিতা করে, যারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদানের বিরুদ্ধে বলে, তারা ইসলামের কিছুই জানে না। তারা জানেই না কোরআন শরিফেও ভাস্কর্যের কথা বলা আছে।
শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরকে আধুনিকায়ন করার জন্য সংস্কৃতি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে আগামী দুই বছরের মধ্যে এই ভাষা চত্বরটি আধুনিকায়নের ঘোষণা দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।
সাহিত্য একাডেমির সভাপতির কবি জয়দুল হোসেন বলেন, গ্রাম বাংলার লোকজ-ঐতিহ্য, বিভিন্ন ধরনের লোকগান এবং লোকজ সংস্কৃতি প্রচার ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে বৈশাখী উৎসবের আন্তরিক প্রয়াসের পরিচয় মেলে। আমরা ৩৮ বছর ধরে এই উৎসব পালন করে আসছি। এই উৎসব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবার উৎসবে পরিণত হয়েছে।
বৈশাখী উৎসব উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন (বিপিএম-সেবা), ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র মিসেস নায়ার কবির, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আ. কুদদূস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আবু সাঈদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাহিত্য একাডেমির সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ভাষা ও সাহিত্য অনুশীলন কেন্দ্রের সভাপতি এস আর এম ওসমান গণি সজিব। আলোচনা শেষে পাপিয়া চৌধুরীর পরিচালনায় ও জিয়ামিনের নির্দেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন।
উৎসবের সূচনাপর্বে সাহিত্য একাডেমির প্রশিক্ষণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা নববর্ষের গান এবং নৃত্য পরিবেশন করেন। ভাষা ও সাহিত্য অনুশীলন কেন্দ্র পরিবেশন করে দলীয় আবৃত্তি এবং নৃত্য। বৈশাখী উৎসবের উদ্বোধনী দিনে উৎসবস্থলে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। এসময় শহরে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও বৈশাখী উৎসবে লোকজ সংস্কৃতি প্রচার ও প্রদর্শনীর পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা থাকবে। মেলা প্রঙ্গণে নানান ধরনের ২০টি লোকজ স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ১৯৮৩ সালে সাহিত্য একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর ১৯৮৭ সাল থেকে স্থানীয় শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে সংগঠনটি ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী উৎসব পালন করে আসছে। যা ব্রাহ্মণবাড়িয়া তথা এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান উৎসবে পরিণত হয়েছে।
