বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

‘আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির কারণে দুর্দশার মধ্যে ঈদ কাটিয়েছে মানুষ’

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ১৬:০০

মানুষ এবারের ঈদে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আকাশচুম্বী মূল্যস্ফীতির কারণে ভাত—তরকারি যোগাড় করা যেখানে কষ্টকর সেখানে ঈদের পোশাক কিনবে কীভাবে?

সোমবার (১৫ এপ্রিল) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে  তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগের মন্ত্রী—নেতারা জনগণকে প্রতারিত করে ভাঁওতাবাজির মাধ্যমে মানসিক আশ্রয় খুঁজছেন। এরা রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাটসহ মানুষের সহায়—সম্পদ আত্মসাৎ করে গণতন্ত্রকে কবর দিয়ে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে সরাসরি জনগণকে প্রতারিত করেছে। 

তিনি বলেন, নিখুঁত ধূর্ততায় জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে বিরতিহীন ডাহা মিথ্যার আবর্তে জনগণকে প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণের পকেট কাটার কারণে এখন দেশে হাহাকার পড়েছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত একজন গার্মেন্টস শ্রমিক নিজের শিশু সন্তানের জন্য ফুটপাথ থেকে ফ্রক কিনতে তা কিনতে পারেনি। চট্টগ্রামের ঈদ বাজারে গত বছরের তুলনায় এবার ত্রিশ শতাংশ কেনাকাটা কমেছে। এই পরিস্থিতি সারাদেশে। ঢাকাতে ধনীদের কেনাকাটা বাড়লেও নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। কাপড় ব্যবসায়ীরা শাড়ী, লুঙ্গী, পাঞ্জাবী তাদের টার্গেটের অর্ধেকও বিক্রি করতে পারেনি। অনেক ব্যবসায়ী ঈদের প্রাক্কালে বাকীতে কাপড় নিয়ে বিক্রি করার পর তার টাকা পরিশোধ করে। এখন তাদের কপালে হাত। আর আওয়ামী আমলে বিত্তশালী শ্রেণী মানেই টেন্টারবাজ, সিন্ডিকেটবাজ ব্যক্তিরা যারা ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদপুষ্ট।

তিনি বলেন, আওয়ামী নেতাদের অনেকেই বলেছেন- দেশে বিত্তশালীদের সংখ্যা বেড়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে—এই বিত্তশালী কারা? এই বিত্তশালী শ্রেণি হচ্ছে বেনজীর শ্রেণি—যারা বিএনপির অসংখ্য নেতা-কর্মীদের গুম, খুন করে প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছে। এছাড়া মেগা প্রজেক্ট ও অবাধে ব্যাংক লুটের কথা এখন কল্পকাহিনীতে পরিণত হয়েছে যা অতি বাস্তব। এটা বাস্তব সত্য যে, দুর্নীতির সঙ্গে ক্ষমতার উপরের দিকে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে। 

বিএনপির এ নেতা অভিযোগ করেন, মিথ্যা ও সাজানো মামলায় ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ—যুব বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সাবেক কমিশনার আনোয়ার পারভেজ বাদল এবং বিএনপি নেতা সাঈদ হোসেন সোহেল জামিন আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এতে গভীর উদ্বেগ ও তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান রিজভী।

ইত্তেফাক/এবি