ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ব্যস্ততা বেড়েছে। একইসঙ্গে সক্রিয় হয়েছে ডাকাত, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন দুর্বৃত্তচক্র। এরই মধ্যে গত কয়েক দিনে কয়েকটি ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনার পর মহাসড়কে জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে।
গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশ। সাধারণত মির্জাপুর অংশে বেশি অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল ও কড্ডা থেকেও ডাকাত দলের বাসে ওঠার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার মহাসড়কে এমন ডাকাত দলের খপ্পরে পড়া ঢাকা কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এমন পরিস্থিতিতে যারা পড়েছে একমাত্র তারাই জানে কী ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়! একটু হেরফের হলে প্রাণও যেতে পারে রাতে ঘটনা দিতে গিয়ে এমনটাই বলেন।
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার মির্জাপুর থানার সাদিয়া টেক্সটাইল মিল লিমিটেডের সামনে হাইওয়েতে চলমান অবস্থায় আনুমানিক রাত ৮টার দিকে ৫-৬ জন অস্ত্র দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আমার মোটরসাইকেল, সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় মির্জাপুর থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এক ডজনেরও বেশি সংঘবদ্ধ ডাকাত, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী ও অজ্ঞানপার্টি তৎপর রয়েছে। এদের মধ্যে আগে ধরা পড়া অপরাধীরাও রয়েছে।
টাঙ্গাইলে গাড়িচালক রিমন বলেন, আগে মহাসড়কে গাড়ি চেক করা এবং যাত্রীদের ছবি তুলে রাখা হলেও এখন তা দেখি না। গাড়িতে ডাকাত উঠে গেলে তখন আর করার কিছু থাকে না।
মহাসড়কে এমন ডাকাত দলের খপ্পরে পড়া আলাউদ্দিন বলেন, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, প্রশাসন ও নানা বাহিনী থাকার পরও রাস্তায় কেন আমাদের নিরাপত্তার অভাব হবে? ঈদে মহাসড়কে পুলিশ টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানাই।
টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. শরফুদ্দিন বলেন, মহাসড়কে অপরাধকারীরা সাধারণত স্বভাবসুলভ অপরাধী। এদের কারাগারে পাঠালেও ফিরে এসে আবার একই অপরাধ করে। পুলিশ সর্বদাই কাজ করে যাচ্ছে। যাত্রীদেরকে একটাই অনুরোধ করি এটা হাইওয়ে রাস্তা নির্জন জায়গা গাড়ি দাঁড় না করানোর। সবাই তার নিজের জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের বিভিন্ন থানায় টিমের পাশাপাশি বিশেষ টিমও কাজ করে যাচ্ছে।
