পূর্বশত্রুতা, চাঁদাবাজি ও মাদকের জেরে গত ১৪ এপ্রিল রাজধানীর পল্লবীর স্বপ্ননগর আবাসিক এলাকায় খুন করা হয় রিহান ইসলাম ওরফে পাভেলকে। পাভেল ও হত্যাকারী অভিযুক্তরা একে অন্যের বন্ধু। এ ঘটনায় জড়িত আরো তিন জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ। তারা হলো—রায়হান বাবু, সোহেল তোতা মামা ও বাচ্চু ওরফে কাজল বাচ্চু। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদ হাসানের নেতৃত্বে একটি দল টাঙ্গাইল, বরগুনা ও বরিশাল মহানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। এর আগে এই ঘটনায় আরো পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পল্লবী থানা পুলিশ। এ নিয়ে মোট আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তাজমুল ও হানিফ নামে আরো দুই জনকে খুঁজছে পুলিশ।
মাদক সেবনের জন্য তাজমুল আরেক সহযোগীর মাধ্যমে গত ১৪ এপ্রিল বিকালে রাজধানীর বাড্ডার পাঁচতলা বাজার এলাকার বাসা থেকে মোটরসাইকেলে পাভেলকে পল্লবীতে ডেকে নেয়। এরপর পল্লবীর ১২ নম্বর সেক্টরের স্বপ্ননগর আবাসিক এলাকার টেকেরবাড়ী নামক স্থানে গণপূর্তের পুকুরের উত্তরপাড়ে মাদক সেবন করে পাভেল। এর মধ্যে সন্ধ্যার দিকে ঘটনাস্থলে বাসযোগে আসে মূল পরিকল্পনাকারী হাবিবসহ আরো কয়েক জন। সবাই একসঙ্গে পাভেলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। চাকু-ছুরি দিয়ে পেট ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৪৫টি আঘাত করে। এরপর তাকে গণপূর্তের পুকুরের পানিতে ফেলে পালিয়ে যায় সবাই। স্থানীয়দের দেওয়া খবরে ঘটনাস্থল থেকে পাভেলের মরদেহ উদ্ধারের পর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পল্লবী থানা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত পাভেলের বাড়ি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায়। ঘটনার পরদিন তার মা ছয় জনকে আসামি করে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। তারা হলো—হাবিব, হানিফ, আনিছ, রায়হান নানু, মিলন ও জনি। বাকি আরো পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, পূর্বশত্রুতা, চাঁদাবাজি ও মাদকের জেরে হত্যার শিকার পাভেল। ভুক্তভোগী ও মূল অভিযুক্ত বন্ধু হলেও তাদের মধ্যে শত্রুতা ছিল। তিনি বলেন, বাড্ডা এলাকায় গ্রুপিং নিয়ে পাভেল ও হাবিবের মধ্যে মারামারি হয়েছিল। ডিবি মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের এডিসি মো. রাশেদ হাসান জানান, পাভেল হত্যায় এখনো দুই জন পলাতক রয়েছে। পাভেলকে তুলে নিয়ে আসা তাজমুল ও হাবিবের আরেক ভাই হানিফ এখনো পলাতক। তাদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
