শনিবার, ১৮ মে ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নির্বাচনে হেরেও নিপুনের গলায় বিজয়ের মালা!

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৪, ১১:৩০

বহু আলোচনা-সমালোচনা পেরিয়ে অবশেষে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। গতকাল (১৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ফলাফলে এবার সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিপুন আক্তারক হারিয়ে নতুন সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আলোচিত অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মিশা সওদাগর।

ভোটগ্রহণের পর ভোট গণনা শনিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার খোরশেদ আলম খসরু। নির্বাচনে ২১ টি পদের মধ্যে ১৮টি পদে জয় পায় মিশা-ডিপজল প্যানেল। ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময় দুই প্যানেলের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই ঘটে গেলো নতুন ঘটনা। নির্বাচনে হেরে বিজয়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দেন নিপুণ।

এসময় তিনি বলেন, ‘এবার শিল্পী সমিতির নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। যার (ডিপজল) প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচন করেছি, চিন্তাও করিনি আমি মাত্র ১৬ ভোটে ওনার কাছে হারবো। আমার চিন্তার বাইরে ছিল। প্রথমে ভেবেছিলাম হয় ২০-২৫টি ভোট পাব। তবে শিল্পীরা যে আমাকে ভালোবাসে সেটা আবারও প্রমাণ পেয়েছি।’

এরপরই নির্বাচিত সভাপতি মিশা সওদাগর ও সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন ডিপজলের গলায় মালা পরিয়ে দেন নিপুণ। নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেই মালা খুলে নিপুণের গলায় পরিয়ে দেন।

সব শেষে নবনির্বাচিত সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, ‘আজকের এই নির্বাচন নামে মাত্র একটি নির্বাচন। সত্যিকার অর্থে আমরা এক পরিবার। তবে নির্বাচনের ফলাফল শেষে নিপুণ আজ যেটা করলো তা নজির হয়ে থাকবে। এমনটাই হওয়া উচিৎ।’

তবে নির্বাচনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত দৃশ্যটা ছিল ভিন্ন। গত ১৫ দিন ধরে নির্বাচন ঘিরে চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। নির্বাচনের আগের দিনও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ডিপজলের বিরুদ্ধে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছিলেন নিপুণের প্যানেলের এক সদস্য। অনেকেই ভেবেছিল গত নির্বাচনের মতোই হয়ত নিপুণ এবারও আদালত পর্যন্ত দৌড়বে।

কিন্তু সেটা আর হল না। সেই সব অভিযোগের পালা শেষ। শুক্রবার হয়ে গেলো চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। এদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৬টা পর্যন্ত।

২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে ঠাঁই পেতে এবারের নির্বাচনে ৬ জন স্বতন্ত্রসহ ২টি প্যানেল থেকে মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ছিলেন প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু। সদস্য হিসেবে আছিলেন এ জে রানা ও বিএইচ নিশান।

ইত্তেফাক/এএইচপি