রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ক্যাসিনো সম্রাট ডন সেলিমের নয়া মিশন

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২৪, ২০:৩২

আলোচিত ক্যাসিনোকাণ্ডের অন্যতম হোতা সেলিম প্রধান নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে ৪ বছর পর সাফাই গাইলেন। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন এবং তাকে পরিকল্পিভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন।

শনিবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এই দাবি করেন। এ সময় তার স্ত্রী, সন্তান ও তার আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।

যদিও গত বছরের অক্টোবরে আকষ্মিকভাবে রূপগঞ্জে তৎপরতা শুরু করেন তিনি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে রূপগঞ্জ পাল্টে দিবেন, কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা থাকবে না বলে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে নাটকীয়ভাবে দ্বাদশ নির্বাচনের আগমূহুর্তে লাপাত্তা হয়ে যান তিনি। তাকে আর খুঁজে পায়নি রূপগঞ্জের মানুষ। জাতীয় নির্বাচন শেষ হলো। সামনে উপজেলা নির্বাচন। আবার মাঠে সক্রিয় হলেন আলোচিত-সমালোচিত ক্যাসিনো সম্রাট ডন সেলিম।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিম প্রধান বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জের সন্তান। ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। একটি বাহিনীর সাবেক প্রধান কর্মকর্তার ২ ভাই (হারিছ আহমেদ ও জোসেফ আহমেদ) পরিকল্পিতভাবে আমাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া আল জাজিরায় তাদের নিয়ে ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে হারিছ স্পষ্ট করে বলেছে, আমাকে কীভাবে ফাঁসানো হয়েছে, কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে র‌্যাব দিয়ে আমাকে প্লেন থেকে আটক করা হয়েছে। অথচ এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন অতিক্রম করার মানে হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। আইনি কোনো মামলা বা জটিলতা নেই। তারপরও আমাকে প্লেন থেকে পরিকল্পিতভাবে নাটক সাজিয়ে গ্রেপ্তার করেছে।

তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ তোলা হয়। এরপর ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাকে ৪ বছর জেল খাটিয়েছে। আমি ওই ষড়যন্ত্রকারীদের বিচার চাই। আমি জেল থেকে বের হয়ে এই ষড়যন্ত্রের কথা গণমাধ্যমে বলে এসেছি। এমনকি জেলে আটক থাকা অবস্থায়ও বলেছি।

এর আগে দীর্ঘ কারাভোগের পর নতুন রূপে ফিরে এসে গত বছরের ২১ অক্টোবর দিনভর তিনি বেশ কয়েকটি পূজামণ্ডপ ঘুরে ঘুরে তার উপস্থিতি জানান দিয়েছেন এলাকাবাসীর মধ্যে। কোলেরর শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষদের বলছেন রূপগঞ্জকে তিনি পাল্টে দিতে চান। কাউকে কোনো খারাপ কাজ করতে দেবেন না। এমপি নির্বাচনও করবেন না। তিনি গরীব-নিরিহ মানুষের পক্ষে থাকবেন। তার এমন কথা আর আচরণে এলাকার মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ইত্তেফাক/এবি