বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

এল ক্লাসিকোতে রিয়ালের জয়

জাভির দাবি অবিচার, আনচেলত্তির মত ভিন্ন

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১৩:২৯

ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ-বার্সেলোনা দ্বৈরথ মানেই ফুটবল ভক্তদের যেন রাতের ঘুম উবে যাওয়া। শুধু কি ভক্ত, খোদ ফুটবলার ও কোচরা যেন চোখের পাতা এক করতে পারেন না এই ম্যাচের আগে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। বরং গত পরশু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে লড়াইটা একটু বেশিই রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছিল। যেখানে জয়ের হাসি ফুটেছে লস ব্লাঙ্কোসদের মুখে। তবে এই হাসি সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না বার্সা কোচ জাভি হার্নান্দেজ। তিনি উলটো ম্যাচের কয়েকটি ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, টেনেছেন অবিচারের প্রসঙ্গও।

রিয়াল-বার্সা ম্যাচটি ৩-২ গোলে আনচেলত্তির শিষ্যরা জয় পেলেও তার পরতে পরতে সাজানো ছিল নাটকীয়তা। মাত্র ৬ মিনিটে আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন যখন বার্সার হয়ে গোল করেন, তখন মনে হচ্ছিল দিনটি কাতালানদের। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। ১৮ মিনিটে পেনাল্টির সুবাদে রিয়াল সমতায় ফিরলে খেলা জমে ওঠে। এরপরে যেন দেখা যায় ক্লাইমেক্স। ম্যাচের ২৭ মিনিটে রাফিনহার কর্নার কিক থেকে অঘটনের জন্ম দেয় বার্সেলোনা। কর্নার থেকে আসা বলে দলটির তারকা লামিনে ইয়ামাল ছোঁয়া দিয়ে গোলমুখে পাঠিয়ে দেন। গোল লাইনে বল গেলে রিয়াল কিপার আন্দ্রে লুনিন সেটিকে বাইরে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু প্রথম দেখায় মনে হচ্ছিল লাইন পার হয়েছে, বার্সার খেলোয়াড়রাও সেই দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু পরে রেফারি জানান, বল লাইন পার করেনি। 

লা লিগায় গোললাইন প্রযুক্তি না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার ডালপালা মেলে। টুর্নামেন্টটির সভাপতি হাভিয়ের তেবাস গোললাইন প্রযুক্তির বিপক্ষে থাকায় এই ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্তকেই সমর্থন করতে হয়েছে কাতালানদের। বিষয়টি নিয়ে জাভি বলেছেন, ‘এত বড় একটা টুর্নামেন্টে গোললাইন প্রযুক্তি না থাকাটা হতাশার। আমি এটা নিয়ে বেশি কিছু বলতে পারি না। বললে সেটি লিগ কর্তৃপক্ষে বিপক্ষে যাবে। তবে সেই মুহূর্তের ছবি রয়েছে। সবাই দেখেছেন কী হয়েছে। শুধু এতটুকুই বলতে পারি, আমাদের সঙ্গে অবিচার হয়েছে।’ 

বার্সা কোচের এমন বক্তব্যের সঙ্গে ঐকমত্য হননি আনচেলত্তি। রিয়াল কোচ বলেছেন, ‘জাভি কী ভাবছেন সে বিষয়ে আমি কোনো মতামত দিতে চাই না। প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত রয়েছে। আমি খেলা সম্পর্কে কথা বলতে পছন্দ করি, সেটিই বলতে পারি। ম্যাচটিতে লড়াই ছিল সমানে সমান, প্রতিযোগিতামূলক, উভয় দল ভালো মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত শক্তি দেখিয়ে আমরা জিতেছি।’

ম্যাচের ৬৯ মিনিটে ফারমিন লোপেজের গোলে বার্সা এগিয়ে যায় ২-১ গোলে। ৭৩ মিনিটে রিয়ালের ডিফেন্ডিং মিডফিল্ডার লুকাস ভাসকুয়েজের গোলে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। আর শেষ মুহূর্তে জুড বেলিংহ্যামের ম্যাজিকে ৩-২ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে রিয়াল মাদ্রিদ। এই জয় নিয়ে দলটির কোচ আনচেলত্তি বলেছেন, ‘আমরা যখন ২-২ সমতায় ছিলাম, তখন অনেক খেলোয়াড়কে আক্রমণে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা কিছুটা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত সহজভাবে ম্যাচটা এগিয়ে নিতে পেরেছি এবং আমরা স্কোর করতে আমাদের স্টেডিয়ামের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে, ভক্তদের সঙ্গে। আমরা যেভাবে জয় চেয়েছি তারাও আমাদের মতোই চেয়েছেন, সমর্থন দিয়েছেন। আমি জানি তারা সব সময় আমাদের পাশে থাকবেন।’ 

আনচেলত্তি আরও বলেছেন, ‘আমি খুব গর্বিত। কারণ তারা চাহিদা অনুযায়ী খেলেছে। আমরা তাদের খুব ভালভাবে পরিচালনা করতে পেরেছি। এখন আমাদের মৌসুমের শেষ অংশের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা ভালো অবস্থানে আছি। ইচ্ছা রয়েছে এই উদ্দীপনা নিয়ে বার্নাব্যুতে তৈরি হওয়া দুর্দান্ত পরিবেশ বজার রাখার। আমি বিশ্বাস করি, এই মৌসুমে ইতিবাচক কিছু অর্জন করতে পারব।’ 

এ দিকে এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে টানা চারটি এল ক্লাসিকোতে জয় তুলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। আগের দ্বৈরথে গেল ১৪ জানুয়ারি সুপারকোপার ম্যাচে ৪-১ গোলে জিতেছিলেন আনচেলত্তির শিষ্যরা। সবমিলিয়ে রিয়াল বস বলেছেন, ‘আমরা বার্সেলোনার বিপক্ষে শেষ ম্যাচে যা করেছিলাম, তার পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা করেছি। স্পষ্টতই, তার থেকেও উন্নতি আমরা করার চেষ্টা করেছি। যদিও কিছু জায়গায় সাফল্যের অভাব ছিল। কখনো পেছন থেকে শুরুটা ভালো হয়েছে, আবার কখনো হয়নি। এটি এমন একটি খেলা ছিল, যেমনটি হওয়া উচিত ছিল। ম্যাচটি দর্শনীয় ও অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা যা করেছি, এর চেয়ে ভালো করা যেত না। আমরা হাল ছাড়িনি। এভাবেই চালিয়ে যেতে চাই।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ