শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

ক্যাসিনো সেলিমের মনোনয়ন বাতিল

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১৮:৩৫

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আলোচিত অনলাইন ক্যাসিনোকাণ্ডের সেলিম প্রধানের উপজেলা চেয়ারম্যান পদের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। 

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বৈধ মনোনয়নপত্রে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তাবিবুল কাদির তমাল, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভুঁইয়া রানু, রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গাজী গোলাম মূর্তজা পাপ্পা। 

ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন আইনজীবী স্বপন ভুঁইয়া, রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হারেজ, স্থানীয় তাঁতীলীগ নেতা রাসেল আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য মিজানুর রহমান।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন-রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসী আলম নীলা, রূপগঞ্জ উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি ফেরদৌসী আক্তার রিয়া, রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়ন মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌসী জান্নাত রুমা ও স্থানীয় যুব মহিলা লীগ নেত্রী তানিয়া সুলতানা।

নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মো. সাকিব আল রাব্বি বলেন, সেলিম প্রধানের বিরুদ্ধে দুদকের এক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগের অভিযোগ করেছে অন্য প্রার্থীরা। এ বিষয়ে তার আইনজীবী সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য জবাব দিতে পারেননি। ফলে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সেলিম প্রধানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
 
সেলিম প্রধানের আইনজীবী মো. কামাল হোসেন বলেন, প্রয়োজনীয় সকল প্রকার কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আমরা হাইকোর্টে আপিল করব। আশা করি হাইকোর্টে সেলিম প্রধানের মনোনয়ন ফিরে পাব।

সেলিম প্রধান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় চার বছর সাজা খেটেছেন। তার বিরুদ্ধে আরও তিনটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। অনলাইন ক্যাসিনোর মূল হোতা সাজাপ্রাপ্ত সেলিম প্রধান এবার উপজেলা নির্বাচনে ইতিমধ্যে গণসংযোগ করেছেন এবং একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছেন।
  
২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডগামী বিমানের একটি ফ্লাইট থেকে নামিয়ে এনে সেলিম প্রধানকে প্রেপ্তার করে র‌্যাব। তাকে নিয়ে তার অফিস ও বাসায় অভিযান চালিয়ে ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকার সমপরিমাণ ২৩টি দেশের মুদ্রা, ১২টি পাসপোর্ট, ১৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেক, ৪৮ বোতল বিদেশি মদ, একটি বড় সার্ভার, চারটি ল্যাপটপ ও দুটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করে। হরিণের চামড়া উদ্ধারের ঘটনায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ নিরাপত্তা আইনে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও মানি লন্ডারিং আইনে দু’টি মামলা হয়।

ইত্তেফাক/পিও