মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

তীব্র গরমেও কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১৮:৪১

বৈশাখের খরতাপেও পর্যটক উপস্থিতি বেড়েছে কক্সবাজারে। ঈদের পর গরমে পর্যটক আসায় ভাটা পড়বে, এমন ধারণাকে মিথ্যে প্রমাণ করে প্রায় প্রতিদিনই উল্লেখ করার মতো ভ্রমনপিয়াসী অবস্থান করছেন পর্যটন নগরীতে। কলাতলীর পাঁচ তারকা হোটেলসহ মোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলোতে কমবেশি বুকিং হচ্ছে। ভরদুপুরেও লোকারণ্য থাকছে বেলাভূমি ও সাগর তীর। গোসল ও নানা ভাবে সৈকতকে উপভোড় করছেন ভ্রমণপিয়াসীরা।

আবাসনসহ পর্যটন সেবার সকল খাত মিলিয়ে দৈনিক কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে। এর আগেও ঈদ পরবর্তী তিনদিনে শতকোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের। আর, পর্যটক উপস্থিতি মাথায় রেখে নিরাপত্তায় সচেষ্ট রয়েছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ।

এদিকে, গরমে তারকা হোটেলগুলো তাদের নিদিষ্ট ভাড়ায় ছাড় দিচ্ছে। গেস্ট হাউস, কটেজ বা নরমাল হোটেলগুলোর অধিকাংশ সহনীয় পর্যায়ে ভাড়া রাখায় গরমেও পর্যটক উপস্থিতি বাড়ছে বলে মনে করছেন আবাসন সেবা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

তাদের মতে, নিয়মিত রেলের পাশাপাশি দুটি স্পেশাল রেলও ঢাকা-কক্সবাজার রেল পথে চলাচল থাকায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটক উপস্থিতি রয়েছে কক্সবাজারে।  

ঢাকার মালিবাগ থেকে আসা পর্যটক দম্পতি আবরার নাঈম বলেন, এর আগে শীত মৌসুমে কক্সবাজারের বেড়াতে এসেছিলাম। এখন রেলে যাতায়ত করতে পারায় পরিবার নিয়ে গরমেই চলে এসেছি। সারাদেশেই তো গরম। এখানে সাগরের সান্নিধ্যে এসে গরম তাড়ানো যাচ্ছে, সঙ্গে হোটেল ভাড়াও তুলনামূলক কম পাচ্ছি। আমার বন্ধুদেরও এ সময়ে কক্সবাজার আসতে আহ্বান করেছি আমি।

ট্যুরস অপারেটর এসোসিয়েশন অব কক্সবাজার (টুয়াক) সভাপতি তোফায়েল আহমেদ বলেন, ৫ শতাধিক হোটেল- মোটেল, গেস্ট হাউস ছাড়াও রেস্তোঁরা, ওয়াটার ও বিচ বাইক, কিটকট, শামুক-ঝিনুক, শুটকি, বার্মিজ পণ্য বিক্রিসহ কয়েক লাখ মানুষ সরাসরি পর্যটন সেবা সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পর্যটক সমাগম বাড়লে তাদের আয়ের পথও সুগম হয়। ঈদের পর হতে কমবেশি পর্যটক উপস্থিত থাকায় হোটেল-রেস্তোরোঁ, মার্কেটের ব্যবসায়ী ও হকারেরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

কক্সবাজার হোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেলিম নেওয়াজ বলেন, আগে পর্যটকরা বুকিং দিয়ে কক্সবাজারে আসতো। ট্রেন চালু হওয়ার পর হতে কক্সবাজার পৌঁছে রুম দেখে বুকিং দিচ্ছে। গত ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত ভালোই ব্যবসা হয়েছে। কিন্তু ১৫ এপ্রিল থেকে ব্যবসায় অন্ধকার নামবে বলে ভেবেছিল ব্যবসায়ীরা। কিন্তু উল্লেখ করার মতো পর্যটক গরমেও কক্সবাজার আসছেন।

কক্সবাজার রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম ডালিম বলেন, পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আয়-ব্যয় সমান্তরাল। দুদিনের ব্যবসায় এখানে টিকে থাকা কষ্টকর। রমজানে কোন ব্যবসাই হয়নি। তবে, ঈদের পর দুদিন পর্যটকে ঠাসা ছিল কক্সবাজার। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই কমবেশি পর্যটক উপস্থিতি রয়েছে। এতে বিনিয়োগ পুরো না উঠলেও নিয়মিত খরচটা পোষানো সম্ভব হবে।

কক্সবাজারের তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস লিমিটেডের পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, ভ্রমণে সিদ্ধহস্ত পর্যটকরা নিরাপত্তা, সেবা, বুফে ব্রেকফাস্ট, ডিনারসহ অন্য সুযোগের কারণে তারকা হোটেল উঠেন। গরম ও ঈদের পর হতে, বিশেষ ছাড়ে রুম পাচ্ছেন পর্যটকরা। ঈদ ও বাংলা নববর্ষ মিলিয়ে হোটেলে আমরা বৈশাখী মেলা ও জলের গান শিল্পী গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করেছি। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার পাবার পর পর্যটকদের আগমন চলমান রয়েছে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউসে ২৫ হাজারের মতো কক্ষ রয়েছে। ঈদে একদিনে আবাসন থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৯-১০ কোটি টাকা। পরিবহণ, রেস্তোঁরা ও অন্য পর্যটন অনুষঙ্গের সেবা মূল্য এসেছে ২০-২৫ কোটি টাকার মতো। এ হিসেবে ঈদ-নববর্ষের ছুটিতে শতকোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। এরপর হতে, গরমেও প্রায় প্রতিদিন কমবেশি পর্যটক উপস্থিতি রয়েছে। সৈকতকে ঘিরে কক্সবাজারকে সুপুরিকল্পিতভাবে সাজানো গেলে বছর জুড়েই পর্যটক সমাগম সমান্তরাল রাখা সম্ভব। এখানকার রাজস্ব আয়ে রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আসতো।

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আপেল মাহমুদ বলেন, আগের মতো-ঈদ ও নববর্ষ ছুটিতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম মাথায় রেখে সব ধরণের প্রস্তুতি ছিল আমাদের। যা এখনো বিদ্যমান। সৈকতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করেছি আমরা। বিপদাপন্ন পর্যটকরা একটি বাটন টিপেই সেবা নিশ্চিতের সুযোগ পাচ্ছেন। পর্যটকের নিরাপত্তা ও সেবায় সার্বক্ষনিক টহল রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. ইয়ামিন হোসেন জানান, ঈদ-নববর্ষের মতো না হলেও প্রতিদিনই কমবেশি পর্যটক উপস্থিতি রয়েছে। হোটেলে-মোটেল ও রেস্তোরাঁয় অতিরিক্ত টাকা আদায় কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে হয়রানি রদ এবং পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিতে মাঠে রয়েছে জেলা প্রশাসন। ঈদেরপর হতে এখনো উল্লেখযোগ্য কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/এবি