প্রচণ্ড গরমে করণীয় ও সালাতুল ইসতিসকার

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৪, ১১:২৪

আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশে হিট অ্যালার্ট জারি করেছে। গরম মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, যা বুখারি শরিফের বর্ণনায় এসেছে। রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘জাহান্নাম তার প্রতিপালকের কাছে এই বলে নালিশ করেছিল, হে আমার প্রতিপালক, দহনের প্রচণ্ডতায় আমার এক অংশ আরেক অংশকে গ্রাস করে ফেলছে। ফলে আল্লাহ তাকে দুটি শ্বাস ফেলার অনুমতি দেন। একটি শীতকালে, অপরটি গ্রীষ্মকালে। আর তাই তোমরা গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড উত্তাপ এবং শীতকালে তীব্র ঠান্ডা অনুভব করো।’

প্রচণ্ড গরমে মুমিনদের উচিত অসহায় পথিকসহ তৃষ্ণাকাতর মানুষকে সহোযোগিতা করা। আমরা এই গরমে অসহায় মানুষকে ফ্যান বা ছাতা দিয়ে সহোযোগিতা করতে পারি। মহল্লা বা রাস্তার পাশে পথিকদের জন্য ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা করে পিপাসার্ত ব্যক্তিকে পানি পান করিয়ে অধিক সওয়াবের সুবর্ণ সুযোগ লাভ করতে পারি। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘সদকা বা দান জাহান্নামের আগুন নির্বাপণ করে। আর পানি পান করানো উত্তম সদকা।’ আবু দাউদ।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনিই আল্লাহ, যিনি বায়ু প্রেরণ করেন। অতঃপর তা (বায়ু) মেঘমালাকে সঞ্চালিত করে। অতঃপর তিনি মেঘমালাকে যেভাবে ইচ্ছা আকাশে ছড়িয়ে দেন এবং তাকে (মেঘমালাকে) স্তরে স্তরে রাখেন। এরপর তুমি দেখতে পাও যে, তার মধ্য থেকে বৃষ্টিধারা নির্গত হয়। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে যাদের কাছে ইচ্ছা (বৃষ্টি) পৌঁছান; তখন তারা আনন্দিত হয়।’ (সুরা রুম :৩৮)

প্রচণ্ড এই গরমে আল্লাহর রেজামন্দি হাসিলের জন্য জিকির ও দুরুদ শরিফ পাঠসহ অতিরিক্ত নফল নামাজ আদায় করা আবশ্যক। দেশ ও দশের জন্য বৃষ্টি কামনা করে ইসতিসকার নামাজ পড়া মুস্তাহাব। তা আদায়ের পদ্ধতি হলো—ইমাম একটি দিন নির্ধারণ করবেন। সেই দিন তিনি সব লোককে নিয়ে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে খোলা প্রান্তে যাবেন। সেখানে আজান-ইকামাত ছাড়া দুই রাকাত নামাজ পড়বেন। নামাজে উচ্চ স্বরে কিরাত পাঠ করবেন। নামাজের পরে খুতবা দেবেন এবং খুতবার শুরুতে চাদর ঘুরিয়ে দেবেন, তারপর কিবলার দিকে দাঁড়িয়ে দুই হাত তুলে দোয়া করবেন। সবাই বসে বসে আমিন বলবেন। টানা তিন দিন ইসতিসকার জন্য বের হওয়া মুস্তাহাব। (দারুল উলুম দেওবন্দের মুস্তাফাদ ফাতাবি [৫/২৩৮, ২১৪]

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘লোকজন রসুলুল্লাহ (স.)-এর কাছে অনাবৃষ্টির কষ্টের কথা নিবেদন করলে রসুলুল্লাহ (স.) ঈদগাহে সাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে নিচের দোয়া করেন। অতঃপর আল্লাহর হুকুমে বৃষ্টি বর্ষণ হতে শুরু করে। বৃষ্টি থেকে পরিত্রাণ পেতে মানুষের ছোটাছুটি দেখে নবিজি হেসে ফেলেন।’ (আবু দাউদ :১১৭৩) দোয়াটি হলো :আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন। আর-রহমানির রহিম। মালিকি ইয়াউমিদ্দিন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ইয়াফয়ালু মা ইউরিদ। আল্লাহুম্মা আনতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আনতাল গানিয়্যু ওয়া নাহলুল ফুকারাউ। আনজিল আলাইনাল গাইছা ওয়াজয়াল মা আনজালতা লানা কুওয়্যাতান ওয়া বালাগান ইলা হিন।’ অর্থাত্, ‘সব প্রশংসা পৃথিবীর প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তিনি পরম করুণাময় ও দয়ালু এবং শেষ বিচারের মালিক। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো মাবুদ নেই, তিনি যা ইচ্ছা করেন, তা-ই করেন। হে আল্লাহ! তুমিই একমাত্র মাবুদ, তুমি ছাড়া আর কোনো মাবুদ নেই। তুমি ধনী, আমরা গরিব। আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করো এবং আমাদের জন্য যা অবতীর্ণ করো, তা আমাদের জন্য শক্তিময় ও কল্যাণ দান করো।’ (আবু দাউদ :১১৭৩)

লেখক: শিক্ষক, খতিব ও ইসলামি গবেষক

ইত্তেফাক/কেকে