বিরল মাথা জোড়া লাগানো যমজ শিশু রাবেয়া ও রোকেয়া অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ আছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ২৪ এপ্রিল তাদের দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন এবং হাঙ্গেরি থেকে আগত চিকিৎসক দল। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এবং বিশেষ চিকিৎসক দল চলমান চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন তারা।
রবিবার (২৮ এপ্রিল) সিএমএইচে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে চিকিৎসার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় দুই মাথা জোড়া লাগানো যমজ সন্তান রাবেয়া ও রোকেয়া। মাথা জোড়া লাগানো যমজ শিশুর চিকিৎসা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। ২৫ লাখ জীবিত যমজ শিশুর মধ্যে মাত্র একটি জোড়া মাথার শিশু জন্ম নেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৯ সালের ১ আগস্ট ৩৩ ঘণ্টার বিরল এই অপারেশনটি প্রথম বারের মতো ঢাকার সিএমএইচে সম্পন্ন হয়, যা বিশ্বে ১৭তম।
চিকিৎসকরা জানান, অস্ত্রোপচারের সবচেয়ে জটিল অংশ ‘যমজ মস্তিষ্ক’ আলাদাকরণের কাজটি সম্পন্ন করতে ২০১৯ সালের ২২ জুলাই রাবেয়া ও রোকেয়াকে সিএমএইচে আনা হয়। ১ আগস্ট অপারেশন হয় তাদের। একই হাসপাতালে ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি এবং ১৩ মার্চ পুনরায় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটব্যাপী দুটি অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এ অপারেশন দুটির মাধ্যমে তাদের মাথায় বিদ্যমান ক্ষতস্থান নতুন কোষ দ্বারা পূর্ণ করা হয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে রাবেয়ার মাথার বাম দিকের চামড়ার ক্ষত শুরু হয় এবং পরে তা বেড়ে চামড়ার নিচে লাগানো কৃত্রিম মাথার খুলি দৃশ্যমান হয়। এই জটিলতা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ ও হাঙ্গেরির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ২০২২ সালের ৭ মার্চ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সিএমএইচে একটি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। বর্তমানে রোকেয়া ও রাবেয়া দুই জনই সুস্থ আছে। অপারেশনে দেশি ও বিদেশি শতাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, চিকিৎসকের ওপর কোনো আক্রমণ সহ্য করা হবে না। আবার রোগীর প্রতি চিকিৎসকের কোনো অবহেলাও বরদাস্ত করা হবে না। রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। মনোযোগ দিয়ে তাদের কথা শুনতে হবে।
গতকাল রাজধানীর বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ৪১তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ও বিসিএস (পরিবার পরিকল্পনা) ক্যাডারের নব নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে ঐ ওরিয়েন্টেশনে অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আর বানু প্রমুখ।
