আধুনিক যুগে এসেও ক্রীতদাসের জীবন! এক এক করে ১৭ বছর কাটাতে হয়ে বন্দী জীবন পর্তুগালের এক ব্যক্তিকে। বয়স তার ৫৪ বছর। দেশটির উত্তরাঞ্চল ব্রাগাংকায় ওই ব্যক্তিকে ক্রীতদাসের জীবন যাপনে বাধ্য করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার পর্তুগালের পুলিশ এই গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করে একটি বিবৃতিতে বলে, আটকে রাখা ব্যক্তিকে গুরুতর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার করা হয়েছে।
এছাড়া, এত বছর ধরে তিনি শ্রম নির্যাতনেরও শিকার হন। অভিযুক্ত চারজন এই ব্যক্তিকে অন্যান্য খামারে কাজ করতে ‘ভাড়ায়’ খাটাতেন।
প্রায় দুই দশক ধরে নির্যাতন
আটক ব্যক্তির মানসিক দুর্বলতা রয়েছে এবং তার পরিবারেও কেউ নেই। প্রায় দুই দশক ধরে কাজ করানো হলেও বিনিময়ে তাকে কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। তার চলাফেরার ওপরেও ছিল অভিযুক্তদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। তার সমস্ত কাগজপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ নথিও রাখা ছিল অভিযুক্তদের কাছেই।
পুলিশ আরও জানায়, ‘তিনি অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতিতে থাকতেন, রাত কাটাতেন একটি ভ্যানে... জীবনযাপনের ন্যূনতম মান ছাড়া, স্বাস্থ্য পরিষেবা ছাড়া, খারাপ খাবার খেয়ে। তিনি একটি গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হবার পরেও অভিযুক্তরা তার কোনো দিন চিকিৎসা করায়নি।’
দীর্ঘ দিন ধরে চলা অত্যাচারের ফলে আটক থাকা ব্যক্তির চলাফেরার ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোনোমতে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন এবং এখন বিশেষ চিকিৎসা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্তরা কোন দেশের নাগরিক, তা জানায়নি পুলিশ। তাদের সকলেরই বয়স ৩৭ থেকে ৪৪। গ্রেপ্তারের পর, মানবপাচার, দাসত্ব ও জালিয়াতির দায়ে তাদের জেরা করা হবে বিচারকের সামনে।
পর্তুগালে মানবপাচারের ঘটনা
পর্তুগালের কৃষিখাতে বিশেষ করে বাড়ছে মানবপাচার ও শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনা। বিনা পারিশ্রমিকে বিভিন্ন খামারে গরিব অভিবাসীদের কাজ করানোর ঘটনাও সামনে এসেছে সম্প্রতি।
গত বছর নভেম্বরে, পর্তুগালের দক্ষিণাঞ্চল আলেনতেহোর কয়েকশ খামারে অভিযান চালায় পুলিশ। মানবপাচার ও শ্রমিক নির্যাতনের দায়ে গ্রেপ্তার হন ২৮জন।
২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে, পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ মোট এক হাজার ১৫২ জনকে মানবপাচারের শিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে বলে ২০২২ সালের জুনমাসে জানায় কাউন্সিল অব ইউরোপ।
সেই সময় সংস্থাটি জানায়, যত জন মানবপাচারের শিকারকে চিহ্নিত করা গেছে, সেই তুলনায় পর্তুগালে তদন্ত, বিচার ও শাস্তির সংখ্যা কম।
