শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

যৌন হয়রানির অভিযোগ

দুই সপ্তাহের প্রতিবেদন হয়নি ২ মাসেও, ঢাবি অধ্যাপকের বিচার চেয়ে শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম

আপডেট : ০৬ মে ২০২৪, ১৮:২১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ যাচাইয়ে গঠিত তদন্ত কমিটিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলে দুই মাসেও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ন্যায়বিচার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা ৩ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযুক্ত অধ্যাপকের স্থায়ী বহিষ্কার না হলে পুনরায় আন্দোলনের নামার ঘোষণা দিয়েছেন।

সোমবার (৬ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের সামনে শিক্ষার্থীরা সংবাদ  সম্মেলনে এ সব কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফিজ খান। এ সময় বিভাগের সকল ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধিসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, গত ৩ মার্চ তদন্ত কমিটি গঠন করে দুই সপ্তাহ সময় বেধে দেওয়া হলেও দুই মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তদন্তের কোনো অগ্রগতি আমরা দেখতে পাচ্ছি না। অথচ এই সময়ে দেশের অন্য দুইটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তা করতে পারেনি।

তারা দাবি করেন, বিশেষ কোনো মহল বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে অথবা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা কমে গেলে লঘুদণ্ড দিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে রক্ষা করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

তিন দিনের আল্টিমেটাম ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে এই ঘটনায় অগ্রগতি আমাদেরকে জানাতে হবে। নিপীড়নের সত্যতা পাওয়া গেলে অধ্যাপক নাদির জুনাইদকে শুধু পদাবনতি বা পদোন্নতি বন্ধ করলেই হবে না। তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইনে ফৌজদারি ব্যবস্থা ও এর সকল ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে। দৃশ্যমান কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি পরিলক্ষিত না হলে নিপীড়িত শিক্ষার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে আমরা বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবারও কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

ইত্তেফাক/এবি