বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

১৩৯ উপজেলায় ভোট আজ

প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধে সর্বাত্মক চেষ্টা, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা: সিইসি

আপডেট : ০৮ মে ২০২৪, ০৬:০০

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট আজ। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে ১৩৯ উপজেলায় ভোটের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। নির্বাচনি সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানোও শেষ হয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোয় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। এখন ভোটের অপেক্ষা।

তবে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দলীয়ভাবে প্রার্থী না দেওয়ায় ভোটের আমেজ সেভাবে নেই। বিএনপি-জামায়াত ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। ফলে অনেকটাই নির্দলীয় আদলে ভোট হচ্ছে। বিশেষ করে বেশির ভাগ উপজেলায় আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের লড়াই হচ্ছে। কেন্দ্র ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা রয়েছে। ভোট অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, ‘ভোটে প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম যাতে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত ২১ মার্চ ঘোষিত তপসিল অনুযায়ী প্রথম ধাপে ১৫২টি উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে হাতিয়া, মুন্সীগঞ্জ সদর, বাগেরহাট সদর, পরশুরাম ও শিবচর এই পাঁচটি উপজেলার সব পদের প্রার্থীরা বিনা ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। অর্থাৎ এই পাঁচ উপজেলায় কোনো পদেই ভোটের প্রয়োজন পড়ছে না। উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ, মৃত্যুজনিত, প্রশাসনিক ও ধাপ পরিবর্তনের কারণে আটটি উপজেলার ভোট স্থগিত করেছে ইসি। শেষ পর্যন্ত প্রথম ধাপে ১৩৯টি উপজেলায় ভোট হচ্ছে।

ভোটে মন্ত্রী-এমপিদের প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধে এবার কঠোর অবস্থানে ইসি। ইতিমধ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের সত্যতা পাওয়ায় জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী রফিকুল ইসলামের প্রার্থিতা বাতিল করে ইসি। যদিও গতকাল বিকালেই ঐ উপজেলার ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। যে এলাকায় মন্ত্রী-এমপিরা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন—সেই সব এলাকার ডিসি-এসপিদের কঠোর হওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রকার প্রভাব বিস্তার করলে ভোট বন্ধের সিদ্ধান্তও আছে।

ভোটকে সুষ্ঠু করতে ১৩৯ উপজেলায় ৮২ হাজার ৭৩৩ জন পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ১২ হাজার ৭৮০ জন বিজিবি সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। রিজার্ভ থাকবে ১৮৩০ জন। ভোটকেন্দ্র এবং মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭৪ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকছে। পাশাপাশি প্রায় আড়াই হাজার রেব সদস্য মোতায়েন থাকবে। ভোটের পরিবেশ শান্ত রাখতে স্বাভাবিক এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ বা ১৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া বিশেষ এলাকায় (পার্বত্য ও দুর্গম এলাকা) সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২০ বা ২১ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও উপজেলার আয়তন, ভোটার সংখ্যা ও ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতি উপজেলায় ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থী ও ভোটকেন্দ্র সংখ্যা

তিনটি পদে ১৬৬৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৭০, ভাইস চেয়ারম্যান ৬২৫ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৪০ জন প্রার্থী রয়েছেন। তবে ভোটের আগেই এই ধাপে চেয়ারম্যান পদে আট, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০ করে অর্থাৎ মোট ২৮ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।

প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে-সিইসি :প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল বলেছেন, ভোটে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে মন্ত্রী-এমপিদের নিবৃত্ত করা হয়েছে, এমনকি প্রভাব বিস্তারের কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধের সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। গতকাল সকালে নির্বাচন ভবনে প্রথম ধাপের উপজেলা ভোট উপলক্ষ্যে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। সিইসি হাবিবুল আউয়াল বলেন, ভোটের দিন আমরা সতর্ক থাকব, কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করব। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। প্রভাব বিস্তার প্রতিরোধে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। দেখা যাক, কতটুকু হয়। প্রভাব বিস্তারের কারণে কিছু কিছু অ্যাকশন নিয়েছি। বিভিন্ন ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করা হয়, এজন্যে একজনকে ডাকিয়ে এনে বক্তব্য নিয়েছি, প্রার্থিতা বাতিল করেছি।

এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিব মো. জাহাংগীর আলম, অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ, ফরহাদ আহাম্মদ খান ও জনসংযোগ পরিচালক শরিফুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন