মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

নয়নাভিরাম কৃষ্ণচূড়ার নান্দনিক সৌন্দর্যে জবির ক্যাম্পাস 

আপডেট : ০৮ মে ২০২৪, ১৯:০২

বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি আর অনেক বহু আন্দোলনের পটভূমির সঙ্গে কৃষ্ণচূড়া গাছের সম্পর্ক খুব নিবিড়। কবি সাহিত্যিকদের ছড়া-কবিতা-গানে উপমা হিসেবে নানা ভঙ্গিমায় এসেছে এই ফুলের সৌন্দর্য্য বর্ণনা। ‘কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জুরি কর্ণে-আমি ভুবন ভুলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে’ কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই মনোমুগ্ধকর গান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় কৃষ্ণচূড়ার তাৎপর্য। 

বৈশাখের শেষ প্রান্তে প্রাকৃতিক যেন তার প্রাণ ফিরে পেলো কৃষ্ণচূড়া ফুলের সৌন্দর্যে। গ্রীষ্মের এই নিস্প্রাণ রুক্ষতা ছাপিয়ে প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়া নিজেকে মেলে ধরছে আপন মহিমায়। ঠিক তেমনি নগরীর পুরান ঢাকায় অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারপাশের সব রূক্ষতা যেন মলিন হচ্ছে আগুনঝরা রক্তিম কৃষ্ণচূড়া কাছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ফুলসহ কৃষ্ণচূড়া গাছ। ক্যাম্পাসের বিজ্ঞান অনুষদ,শান্ত চত্ত্বর, রফিক ভবনের সাথে, কলা অনুষদ ও দ্বিতীয় ফটকের সামনে রক্তিম লাল হয়ে রং ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া। এ যেন ফুল-পাতা দিয়ে গড়া প্রকৃতির এক স্বর্গরাজ্য। জবি এখন কৃষ্ণচূড়ার রঙে রঙিন এক ক্যাম্পাস। দৃষ্টিনন্দন ফুলগুলোর শোভা বাড়াচ্ছে ইট পাথরের জবি ক্যাম্পাসে। যা ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।


উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে কৃষ্ণচূড়া গাছটির আদিনিবাস মাদাগাস্কারে এবং গাছটির আরেক নাম গুলমোহর যদিও তা কম লোকই জানেন, কিন্তু কৃষ্ণচূড়াকে চেনেন না এমন লোক খোঁজে পাওয়া দায়। কৃষ্ণচূড়া এ দেশে এসে পরিচিত হয়েছে নতুন নামে। অনেকেই মনে করেন, রাধা ও কৃষ্ণের নাম মিলিয়ে এই ফুলের নাম হয়েছে কৃষ্ণচূড়া। মাদাগাস্কারের জঙ্গলে এটি বিলুপ্ত প্রায় হলেও বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি পাওয়া যায়। সৌন্দর্য বর্ধক গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত।

কৃষ্ণচূড়া গছটির উচ্চতায় কম (সর্বোচ্চ ১২ মিটার) হলেও শাখা- প্রশাখা এটি বেশি অঞ্চল ব্যাপী ছড়ায়। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ হয়ে থাকে। কৃষ্ণচূড়াগাছের লাল, কমলা, হলুদ ফুল এবং উজ্জ্বল সবুজ পাতা পরিবেশকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। বাংলাদেশে সাধারণত বসন্তকালে এ ফুল ফুটলেও গ্রীষ্ম পর্যন্ত চলে তার রাজত্ব।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, ক্যাম্পাসে দ্বিতীয় ফটকে, রফিক ভবনের পাশে যেন সবুজের পাতায় মধ্যে রক্তিম লাল আলো ছড়াচ্ছে।

বিজ্ঞান অনুষদ ও কলা অনুষদের চারপাশে গাছগুলো যে লাল ছোঁয়া দিচ্ছে ক্যাম্পাসের প্রকৃতিকে। শিক্ষার্থীরা উপভোগ করছেন রক্তিক লাল কৃষ্ণচূড়ার মন বোলানো প্রেম নিবেদনকে তাইতো কেউ কেউ বিভিন্ন ভঙ্গিমায় ফুলের সাথে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ সহপাঠী ও বন্ধুবান্ধদের নিয়ে গাছের নিচে বসে মেতেছেন খুনসুটি ও আড্ডায় । আবার কেউ প্রিয় মানুষটির জন্য গাছের নিচে পড়ে থাকা ফুলের পাপড়িও কুড়াচ্ছেন গাছের নিচে এসে। ক্যাম্পাসে আসা শিক্ষার্থীদের প্রকৃতির অপরূপ রূপে রাঙিয়ে দিতেই এই আয়োজন কৃষ্ণচূড়ার। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী, পথচারী বা ক্যাম্পাসের সম্মুখের সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে যেকোনো যাত্রীরই হৃদয় কাড়ে নয়ন জুড়ানো এসব কৃষ্ণচূড়া ফুল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের কৃষ্ণচূড়া গাছগুলোর অধিকাংশই কলেজ থাকাকালীন সময়ে রোপণ করা হয়। এছাড়াও একাডেমিক ভবন ও দ্বিতীয় ফটকের গাছগুলো ২০০৮ সালের পর লাগানো হয়েছে। অন্যান্য গাছগুলো কখনো শিক্ষার্থীরা আবার কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে । ২০১৭ সালের ১৭ মে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বরে বেড়ে ওঠা ক্যাম্পাসের লাল সুন্দরী খ্যাত ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী কৃষ্ণচূড়া গাছটি কোনো ঝড়-বৃষ্টি ছাড়াই হঠাৎ উপড়ে পড়ে যায়।

মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো রাকিব হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসের রক্তিম কৃষ্ণচূড়া আমাদের ক্যাম্পাসের পরিবেশকে যেন রং দিয়ে সাজিয়েছে। লাল এর মাঝে নিজেকে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। এই কৃষ্ণচূড়ার রংমশাল আমার সবুজে ঘেরা গ্রামের কথা আবার মনে করিয়ে দেয়। 

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক জিলন বলেন, ধূলা মলিন বৃক্ষ স্বল্পতার ইট পাথরের এই শহরে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করা খুবই দুষ্প্রাপ্য। ক্যাম্পাসের থোকা থোকা কৃষ্ণচূড়া  ফুল আমাদের সে সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ করে দিচ্ছে। এখন ক্যাম্পাসে গেলে মনে হয় ফুলের স্বর্গ রাজ্যে বিচরণ করছি, মনের অজান্তেই কৃষ্ণচূড়া ফুল হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়।আমাদের প্রত্যাশা কৃষ্ণচূড়ার এই অপরূপ দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যটি যেন অমর হয়ে বেঁচে থাকে  যুগের পর যুগ। আপন মায়ার চাদর আকাশে ছড়িয়ে মেলে ধরুক স্বপ্নময় নয়নাভিরাম কৃষ্ণচূড়ার নান্দনিক সৌন্দর্য।

ইত্তেফাক/এআই