বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

অনিয়মের অভিযোগে ৩ এসআইসহ চারজনকে একযোগে বদলি

কর্তৃপক্ষ বলছে নিয়মতান্ত্রিক 

আপডেট : ১০ মে ২০২৪, ২০:৩২

পেশাগত দায়িত্বপালনকালে অনিয়মের অভিযোগে কক্সবাজারের রামু থানার ৩ এসআইসহ চারজনকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। তবে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলছে এটি নিয়মতান্ত্রিক বদলি।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) কক্সবাজারের পুলিশ সুপার  মো. মাহফুজুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক আদেশে থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বদলি হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই আবুল কাওসার, মো. আল আমিন, মুহাম্মদ ইমরান উদ্দিন ও কনস্টেবল মো. মাহমুদ।

বদলির আদেশ অনুযায়ী, রামু থানার এসআই আবুল কাওসারকে পেকুয়া থানা, মুহাম্মদ ইমরান উদ্দিনকে সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ি, মো. আল আমিনকে কুতুবদিয়া ও কনস্টেবল মো. মাহমুদকে সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়িতে পদায়ন করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ রয়েছে।

আদেশটি চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজিসহ ৯ জনকে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের রামু থানার ওসি মোহাম্মদ আবু তাহের দেওয়ানের ছত্রছায়ায় এসআই কাওসার ও আল আমিনের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে ‘সিভিল টিম’। এই টিমের সব কিছুই দেখভাল করেন ওসির আরেক আস্থাভাজন এসআই মো. আল আমিন।

এ ছাড়া এই টিমে রয়েছে এসআই মুহাম্মদ ইমরান উদ্দিন, মো. আহসান হাবীব, পিপল দেব, রাকিব হোসেন, মো. তৌহিদুল ইসলাম, মো. মাহমুদ, মো. আবু বক্কর। তাদের ছত্রছায়ায় পুরো রামু উপজেলাজুড়ে চলছে নানা অপরাধ। এই সিভিল টিমের সহযোগিতায় রামুর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ইয়াবা, গরু, সিগারেট পাচার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনকি রাতে মাটি পাচারেও সহযোগিতা করে আসছে এই সিভিল টিম।

এ টিমের বিরুদ্ধে ইয়াবাসহ লোকজন ধরে থানায় এনে ছেড়ে দেওয়া এবং জব্দকৃত ইয়াবা বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। ইতিমধ্যে এই টিমের এসআই মো. আল আমিনের বিরুদ্ধে ইয়াবা সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখায় কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে বদলিকৃত ৩ এসআই ও এক কনস্টেবলসহ অনেকের নাম ছিল।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রামু থানা থেকে বদলিকৃত ৩ এসআইসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে রামু থানার ওসি আবু তাহের দেওয়ানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তারা নিয়মতান্ত্রিক বদলি হয়েছেন। অন্য অভিযোগের বিষয়গুলো জানা নেই। এ ধরনের অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এবি